স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানি: শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে উত্তাল শ্রীপুর, বিক্ষোভ-সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক (শ্রীপুর), এবিসিনিউজবিডি, (১৮ জুন) : মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার হাট দাড়িয়াপুর সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ মহাসিন মাস্টারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও গ্রেফতারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এদিন সকালে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি সাচিলাপুর বাজার প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিদ্যালয়ের পতাকা মঞ্চের সামনে এসে সমাবেশে রূপ নেয়। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের স্লোগানে পুরো ক্যাম্পাস উত্তাল হয়ে ওঠে।

যৌন নিপীড়ন ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি এবং দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ শাহাজাহান শেখের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মশিউল আযম, দাড়িয়াপুর সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক কাজী সাখাওয়াত হোসেন, দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম প্রদীপ।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক সদস্য আনোয়ার হোসেন, উপজেলা কৃষক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শুকুর মাহমুদ, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রোকনুজ্জামান এবং ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুন মৃধাসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।

অবিলম্বে লম্পট শিক্ষক মহাসিন মাস্টারকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মহাসিন মাস্টারের বিরুদ্ধে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড এটাই প্রথম নয়। এর আগেও ছাত্রীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তিনি বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন এবং দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রাইভেট পড়ানোর আড়ালে ছাত্রীদের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের অনৈতিক ও ঘৃণ্য কাজ করে আসছিলেন।

টানা আন্দোলন ও ক্ষোভের মুখে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী ইমাম হোসেন সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। এর প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষক মহাসিন মাস্টারকে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

আজ (১৮ জুন) তাকে একটি কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবে তিনি পলাতক থাকায় তার স্ত্রী নোটিশটি গ্রহণ করেছেন।

প্রধান শিক্ষক আরও জানান, আমাদের বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন সম্মানিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়। ওনার সাথে আলোচনা করে দ্রুত একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে আইনগত চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের সঠিক বিচার ও নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে প্রধান শিক্ষক আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের শান্ত হয়ে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ