রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ম্যানার শেখানো’র নামে র্যাগিংয়ের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক (রাজশাহী), এবিসিনিউজবিডি, (৫ মে) : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের র্যাগিং, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার বিকেলে বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভুক্তভোগী ১০ জন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তানভীরুল ইসলাম ইমন, আফতাব ইমন, সজিব রহমান, অলি আহমেদ, রিওয় খান, তাসিবুল ফাহাদ, মাহফুজুল ইসলাম নয়ন, ফরহাদ রেজা ইমন এবং ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের নাফিউল ইসলাম অনিক এবং ভুক্তভোগীদের সহপাঠী নোমায়েত ইসলাম মারুফ।
অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের বিনোদপুর এলাকায় ডেকে নিয়ে তথাকথিত ‘ম্যানার শেখানো’র নামে অপমানজনক আচরণ করা হতো। বারবার নিজের পরিচয় দেওয়া, বিকৃত কবিতা আবৃত্তি, অকারণে গালিগালাজ, মারধরের হুমকি এবং খাতায় একাধিক পৃষ্ঠা ধরে সিনিয়রদের নাম লিখতে বাধ্য করা হতো। এ ছাড়া সিনিয়রদের ডাকে সাড়া না দিলে হুমকি এবং তাদের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিলেন অভিযুক্তরা।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, গত শনিবার বিকেলে বিনোদপুর এলাকায় ডেকে নিয়ে এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করা হয়। পরে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত না হলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর রবিবার একটি মিথ্যা নোটিশ দিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে ডেকে এনে সিনিয়রদের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। উপস্থিত না হলে বিভাগ ও ব্যাচ থেকে বয়কট করার হুমকির কথাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
তবে র্যাগিংয়ের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত তাসিবুল ফাহাদ বলেন, ‘আমরা জুনিয়র ও সিনিয়র সবাই একসঙ্গে বসেছিলাম। আমরা কোনো র্যাগ দিইনি, আমরা সিনিয়র হিসেবে তাদের নবীনবরণের বিষয়ে আলোচনার জন্য বসেছিলাম। র্যাগিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
এ বিষয়ে জানতে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মাজেদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমরা হাতেনাতে ধরেছি। এ ছাড়া অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগের সঙ্গে কিছু স্ক্রিনশট যুক্ত করেছেন। আমরা সবই পর্যালোচনা করছি। বিভাগের সঙ্গেও কথা হয়েছে। শিগগিরই অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
মনোয়ারুল হক/
