জামায়াতকে পাকিস্তানি বাহিনীর দেশীয় সহযোগী রেখে জামুকা বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১০ এপ্রিল) : পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম বহাল রেখে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিতে বিল পাস করেছে সংসদ।

এতে জামায়াতের পক্ষ থেকে আপত্তি জানিয়ে দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বক্তব্য দেন। তবে তাদের জোটসঙ্গী এনসিপির পক্ষ থেকে এই বিলের ওপর কোনো আপত্তি নেই বলে স্পিকারকে লিখিতভাবে জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সংসদের বৈঠকে বিলটি উত্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২-এর বিদ্যমান সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার লক্ষ্যে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় সহযোগী—রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন—এমন সব বেসামরিক নাগরিক, যাদের বয়স ওই সময়ে সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন সীমার মধ্যে ছিল; তারা ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন।’

সংসদে আপত্তি জানানোর সুযোগ পেয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বক্তব্য দেন। তবে তিনি বিলের নির্দিষ্ট কোনো ধারায় সংশোধনী প্রস্তাব তোলেননি।

জামুকা আইনের প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সংজ্ঞাগুলো স্বাধীনতার পরবর্তী সরকার বা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আমলে প্রবর্তিত হয়নি; বরং এগুলো পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যুক্ত হয়েছে।

শেষে তিনি বিভাজনের পরিবর্তে দায়িত্বশীলতা ও সহমর্মিতার ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান।

১৯৭৯ সালে জারি করা রাজনৈতিক দল অধ্যাদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পুনর্জন্ম হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় সব রাজনৈতিক দল তাদের অধিকার ফিরে পায়। জামায়াতে ইসলামীও সে সময় ফিরে পেয়েছে। সেই দায়-দরদ নিয়ে ১৯৭৯ সাল থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করছি। আমরা জাতিকে আর বিভক্ত করতে চাচ্ছি না।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ