নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব না দিলে ২৩ দল ও ২১ প্রার্থীর জেল-জরিমানা: ইসি
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (২৪ মে) : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব জমা না দেওয়ায় কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যয় বিবরণী দাখিল না করা ২৩টি রাজনৈতিক দল এবং ২১ জন প্রার্থীকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছে কমিশন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, বর্ধিত সময়সীমার মধ্যেও যদি সংশ্লিষ্ট দল ও প্রার্থীরা তাদের খরচের হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-১৯৭২’ এর বিধান অনুযায়ী, এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বনিম্ন ২ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে তাদের।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং আইনি বাধ্যবাধকতা বজায় রাখতে নির্ধারিত সময়ের পর আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
রবিবার (২৪ মে) ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ইসি সূত্র জানায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হয়। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের এক মাসের মধ্যে প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পরে প্রার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়িয়ে ৬ মে পর্যন্ত করা হলেও ২১ জন প্রার্থী সেই সময়ের মধ্যেও হিসাব জমা দেননি। এবার তাদের জন্য সর্বশেষ আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব জমা না দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মির্জা মো. শওকত আকবর (রওশন), বাংলাদেশ জাসদের হাবিব মো. ফারুক, জেএসডির মো. আজিজুর রহমান সরকার, গণঅধিকার পরিষদের মো. নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নবাব মো. শামসুল হোদা, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. আব্দুল হালিম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ও মহিবুল্লাহ খোকন, গণঅধিকার পরিষদের মো. আইনুর রহমান (জুয়েল) মিয়া ও মো. আবু তৈয়ব।
এ ছাড়া রয়েছেন আমজনতার দলের মো. আলা উদ্দিন ও মো. জালাল উদ্দীন রুমী, জাতীয় পার্টির মো. কামাল উদ্দিন, এনডিএমের আবুল কালাম, এবি পার্টির মো. রফিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. লিটন, খেলাফত মজলিসের শেখ মুশতাক আহমদ, নাগরিক ঐক্যের মো. এনামুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফরিদুল আলম এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আবু সাঈদ মো. সূজাউদ্দীন।
ইসি জানিয়েছে, এসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৪ জুনের মধ্যেও ব্যয়ের হিসাব জমা না দিলে আরপিওর অনুচ্ছেদ ৭৪ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ ২৩টি রাজনৈতিক দলও নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি। এসব দলকে আগামী ১৩ জুনের মধ্যে ব্যয়ের বিবরণী জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হয়। সে হিসেবে গত ১৩ মে ছিল হিসাব জমা দেওয়ার শেষ দিন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ ২৭টি দল তাদের ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে।
মনোয়ারুল হক/
