যুদ্ধবিরতির অর্থ যুদ্ধের সমাপ্তি নয়: মোজতবা খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (৮ এপ্রিল) : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার সব সামরিক ইউনিটকে গোলাবর্ষণ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু একই সঙ্গে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এটি যুদ্ধের শেষ নয়।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং-এ (আইআরআইবি) পঠিত এক বিবৃতিতে খামেনি বলেন, ‘এটি যুদ্ধের শেষ নয়, তবে সেনাবাহিনীর সব শাখার উচিত সর্বোচ্চ নেতার আদেশ মেনে যুদ্ধবিরতি পালন করা।’

ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই যুদ্ধবিরতির অর্থ যুদ্ধের সমাপ্তি নয় এবং শত্রুপক্ষ- যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কোনোভাবে পদক্ষেপ নিলে তাদের হাত বন্দুকের ট্রিগারেই থাকবে।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে: ‘পুনরায় জোর দিয়ে বলা হচ্ছে যে, এর অর্থ যুদ্ধের সমাপ্তি নয়… আমাদের হাত ট্রিগারেই রয়েছে। শত্রুপক্ষ থেকে সামান্যতম ভুল হলেও তার জবাব পূর্ণ শক্তিতে দেওয়া হবে।’

ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা চালিয়ে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করে। গত ৩৯ দিনে এই সংঘাতে বিভিন্ন দেশের অসংখ্য মানুষ নিহত হয়েছেন।

ইরানের জনগণের আত্মত্যাগের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, ‘এখন আমরা ইরানের মহান জাতিকে এই সুসংবাদ দিচ্ছি যে, যুদ্ধের প্রায় সব উদ্দেশ্যই অর্জিত হয়েছে এবং আপনাদের সাহসী সন্তানরা শত্রুকে ঐতিহাসিক অসহায়ত্ব ও স্থায়ী পরাজয়ে পর্যবসিত করেছে।’

যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির দাবিতে ইরানের কাছে একটি ১৫ দফা প্রস্তাবনা পাঠিয়েছিল এবং আলোচনার ভিত্তি হিসেবে একটি সংশোধিত ১০ দফা প্রস্তাবনা পেয়েছে। প্রস্তাবনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে ইরান বলেছে, এতে কিছু মৌলিক বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এগুলো হলো- ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিয়ন্ত্রিত যাতায়াত; প্রতিরোধে ইরানের মিত্রশক্তির সব অংশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করার আবশ্যকতা; এই অঞ্চলের সব ঘাঁটি ও অবস্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবাহিনীর প্রত্যাহার; হরমুজ প্রণালীতে একটি নিরাপদ ট্রানজিট প্রোটোকল প্রতিষ্ঠা করা, যা সম্মত প্রোটোকল অনুযায়ী ইরানের আধিপত্য নিশ্চিত করবে; হিসাব অনুযায়ী ইরানকে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান; সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা এবং বোর্ড অব গভর্নরস ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব প্রত্যাহার; বিদেশে ইরানের অবরুদ্ধ সব সম্পদ ও সম্পত্তি ছাড়; এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবে এসব বিষয় অনুমোদন।

ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ‘১০ দফা পরিকল্পনায় নির্ধারিত নীতিগুলো মেনে নেওয়ার শর্তে’ আলোচনায় বিস্তারিত বিষয়গুলো চূড়ান্ত হলে তারা যুদ্ধের সমাপ্তি মেনে নেবে।

তেহরান নিশ্চিত করেছে যে, আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে এবং তা দুই সপ্তাহ ধরে চলবে। তবে উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে আলোচনার সময় আরও বাড়ানো যেতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, ‘এই সময়ে পূর্ণ জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং পূর্ণ শক্তিতে বিজয় উদযাপন অব্যাহত রাখা অপরিহার্য।’

একে ‘রণক্ষেত্রে শত্রুর আত্মসমর্পণ’ আখ্যা দিয়ে ইরান বলেছে, যদি এই যুদ্ধবিরতি আলোচনায় একটি চূড়ান্ত রাজনৈতিক সাফল্যে পরিণত হয়, তবে তারা এটিকে একটি ‘মহান ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে উদযাপন করবে। অন্যথায় তাদের সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা লড়াই চালিয়ে যাবে। সূত্র: এনডিটিভি

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ