কর্মক্ষম হাত ও জনশক্তিকে কাজে লাগিয়েই ভাগ্যবদল সম্ভব: ত্রিশালের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক (ময়মনসিংহ), এবিসিনিউজবিডি, (২৩ মে) : দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনে দেশের বিশাল জনশক্তিকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে যদি উৎপাদনশীল ও কর্মক্ষম করে তোলা যায়, তবেই দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
শনিবার (২৩ মে) বিকেল ৩টার দিকে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চায়। আজকে সময় এসেছে একদিকে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের কাজগুলো সফল করার, অন্যদিকে যারা ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের ব্যাপারে সজাগ থাকার। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে।
এখন যারা অরাজকতা সৃস্টি করতে চাইছে, তারা তলে তলে পতিত সরকারের সাথে যোগাযোগ করছে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘অরাজক পরিস্থিতি সৃস্টি করতে পারলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ মানুষুরে সুযোগ-সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। এখন যারা অরাজকতা সৃস্টি করতে চাইছে, তারা তলে তলে পতিত সরকারের সাথে যোগাযোগ করছে ১৯৯৬ সালের মতো। যারা ন্যায় বিচারকে বাধাগ্রস্তের চেষ্টা করছে তাদের বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশ একটি পরিবারের মতো, ২০ কোটি মানুষের জন্য সব সুযোগ-সুবিধা এক সাথে সম্ভব নয়। ঐক্যবদ্ধ থাকলে ধীরে ধীরে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।’
রাজধানী পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রামিসা হত্যা ইস্যুতে আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। অন্যায়কারীকে শাস্তি দিতে কিছু নিয়মের মধ্যে যেতে হয়।’
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘রামিসা ইস্যুতে একটি মহল আইনের স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত করছে। রামিসা ইস্যুতে যারা সড়ক অবরোধ করছে, দেশে ঘোলাটে অবস্থা সৃষ্টি করছে, তারা কিন্ত মানুষের অধিকার, সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কথা বলে না। যারা দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃস্টি করতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।’
তরেক রহমান আরও বলেন, ‘কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সফল হবে, এমন সুযোগ আর দেওয়া হবে না। যে কোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে বিএনপি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল সেই সময়েও দেশে কয়েকটি অন্যায় ঘটেছে, সেই সময় আমি নিজে ভুক্তভোগীদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। আমাদের দলের চিকিৎসকরা গিয়ে চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছিল, আইনজীবীরা আইনি সহায়তা দিয়েছিল। কিন্তু আজকে যারা হৈচৈ করছে, রাস্তা অবরোধ করছে, বড় বড় কথা বলছে সেদিন কিন্তু তাদের আমরা মাঠে দেখিনি।
এর আগে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বৈলর ইউনিয়নের কানহর এলাকায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে ঝড়বৃষ্টির মধ্যে প্রথমে তিনি ধরার খালের ফলক উন্মোচন করেন। পরে খালের পাড়ে নেমে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খনন কাজের সূচনা করেন। এরপর তিনি খালের পাশে একটি তালগাছের চারা রোপণ করেন।
মনোয়ারুল হক/
