২২৩ টাকা বাড়িয়ে এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২ নভেম্বর): দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম লাগাতার বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র নয় মাসের ব্যবধানে ১২ কেজি ওজনের একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৭১৯ টাকা। চলতি বছরের মার্চ মাসে ১ হাজার ৩৪১ টাকা মূল্যের একটি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে নভেম্বর মাসে এসে দাঁড়ায় ২ হাজার ৬০ টাকায়।

হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের বাজারদর ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। এর পর অক্টোবরে তা একলাফে ২৫২ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায় পৌঁছায়। এরপর নভেম্বর মাসে আরও ২২৩ টাকা বাড়িয়ে সিলিন্ডারপ্রতি নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ হাজার ৬০ টাকা।

এর আগে গত মার্চ মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। সেই হিসেবে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দাম কেবল ২৪৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল।

সব মিলিয়ে, মাত্র নয় মাসের ব্যবধানে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭১৯ টাকা বা প্রায় ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে রান্নার প্রধান জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহারকারী প্রতিটি পরিবারের মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে।

পরপর কয়েকটি ধাপে বড় অংকের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এলপিজি এখন সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যেসব পরিবার রান্নার কাজে সম্পূর্ণভাবে সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তাদের দৈনন্দিন সংসার খরচে এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

বর্তমানে দেশের গৃহস্থালিতে রান্নার কাজে এলপিজির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা এবং অন্যান্য বড় শহরগুলোতে পাইপলাইনের গ্যাসের অপর্যাপ্ততা এবং নতুন সংযোগ সীমিত থাকায় অসংখ্য পরিবার বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভর করছে। ফলস্বরূপ, এলপিজির দাম বাড়লেই সরাসরি বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের।

উল্লেখ্য, এলপিজির মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের মূল্য, আমদানি খরচ, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং পরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক ব্যয়গুলো বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে এসব সূচক পর্যালোচনা করে ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজির নতুন দাম সমন্বয় করে থাকে।

তবে কমিশনের নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে খুচরা বাজারে বিক্রি হওয়া সিলিন্ডারের প্রকৃত দামের পার্থক্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভোক্তাদের নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগও পাওয়া যায়। বিশেষ করে নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর বাজারে এলপিজি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ভোক্তামহলে তীব্র উদ্বেগ রয়েছে।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ