ধেয়ে আসছে মুরাসু, ভারতের ৩ রাজ্যে স্কুল-কলেজ বন্ধ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (২ নভেম্বর): দক্ষিণ ভারতের পূর্ব উপকূলের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে ভয়াল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু ও ওড়িশা রাজ্য প্রশাসন ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২ নভেম্বর রাত সাড়ে ১১টা থেকে ৩ নভেম্বর ভোর ৪টার মধ্যে ওঙ্গোলের কাছাকাছি অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল নেলোর এবং নরসাপুরের মধ্যবর্তী কোনো স্থান দিয়ে এটি স্থলভাগ অতিক্রম করতে পারে। উপকূল অতিক্রম করার সময় অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটারে পৌঁছে যেতে পারে, যা কখনো কখনো দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার রূপ নিয়ে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর বিভিন্ন জেলায় এবং ওড়িশার নির্দিষ্ট কিছু অংশে স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তেলেঙ্গানার একাধিক জেলাতেও কমলা এবং হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরে তৈরি হওয়া একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ থেকে এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সিস্টেমটির উৎপত্তি ঘটে। ক্রমান্বয়ে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে গত ৩১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টায় এটি নিম্নচাপে রূপ নেয় এবং ১ নভেম্বর ভোরে দক্ষিণ-পূর্ব ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়।
এরপর ঘণ্টায় প্রায় ২৩ কিলোমিটার বেগে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ১ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় দক্ষিণ-পশ্চিম ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে এটি ‘মুরাসু’ নামক ঘূর্ণিঝড়ে রূপ লাভ করে। পরবর্তীতে ২ নভেম্বর ভোরের দিকে সিস্টেমটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে একটি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়।
উল্লেখ্য, ‘মুরাসু’ শব্দটির অর্থ যুদ্ধের ডামাডোল। আঞ্চলিক ঘূর্ণিঝড় নামকরণের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে ভারত সরকার এই নাম প্রস্তাব করেছিল।
ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি যখন অবস্থান করছিল তখন এটি চেন্নাইয়ের ২৬০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে, নেলোরের ২৯০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে, মাছলিপত্তনমের ৩২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং ওঙ্গোলের ৩৩০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল।
মুরাসুর ক্ষতিকর প্রভাব কেবল অন্ধ্রপ্রদেশেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর আঘাতের ফলে তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, ওড়িশা এবং ছত্তিশগড় রাজ্যও প্রভাবিত হতে পারে। সূত্র: দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
মনোয়ারুল হক/
