দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ৪৯ প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য
দিনাজপুর প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, (৩১ অক্টোবর): দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বোর্ডের অধীনে থাকা মোট ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বোরহানউদ্দিন।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এই শূন্য পাসের হারের তালিকায় রংপুর বিভাগের আটটি জেলাই—নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের বিভিন্ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং কলেজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ভেরভেরী মাঝাপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৫১ জন পরীক্ষার্থী) এবং নীলফামারী সদর উপজেলার আদর্শ কলেজ (৪০ জন পরীক্ষার্থী)। উভয় প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী ফেল করেছেন। এ ছাড়া নীলফামারীর ডোমারের বাগডোকরা নিমোজখানা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নয়ন খাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩১ জন করে পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেননি। একই পরিণতি হয়েছে উলিপুরের হজরত ফাতেমা (রা.) পৌর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩১ জন পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রেও।
তালিকায় আরও রয়েছে কুড়িগ্রামের চর শৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজ (২৪ জন) ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর ফকিরহাট মহিলা কলেজ (২১ জন)।
দিনাজপুর জেলার যেসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—বীরগঞ্জের কবিরাজহাট কলেজ (৮ জন) ও সোনকা আদর্শ কলেজ (৫ জন), ফুলবাড়ীর উত্তর লক্ষ্মীপুর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ (১১ জন), বিরামপুরের বেপারিটোলা আদর্শ কলেজ (১১ জন), এবং হাকিমপুরের পাউশগাড়া হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বোয়ালদার স্কুল অ্যান্ড কলেজ (উভয় প্রতিষ্ঠানে ১১ জন করে)।
অন্যান্য জেলার মধ্যে রংপুরের পীরগঞ্জের কাদিরাবাদ উইমেন্স কলেজ (১৫ জন), কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী মডেল কলেজ (১৫ জন), ঠাকুরগাঁওয়ের হারিনমারী স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১২ জন) এবং লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা মডেল কলেজে (১১ জন) অংশগ্রহণকারী সব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।
বোর্ডের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ তালিকা অনুযায়ী শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরও আছে:
নীলফামারী: পাঁচপুকুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জামিরবাড়ী মহিলা মহাবিদ্যালয়, তারানীবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সামিরউদ্দিন আদর্শ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, সোনারহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও লক্ষ্মীচাপ সৃজনশীল কলেজ।
কুড়িগ্রাম: সিঙ্গার ডাবরিহাট কলেজ, সিঙ্গার ডাবরির হাট বি.এল. হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুটিপাড়া ডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চিলাখানা মডেল কলেজ এবং দক্ষিণ খাউরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
ঠাকুরগাঁও: সালন্দর উইমেন্স কলেজ, কদমরসুল হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গোগর কলেজ, রাউতনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, একতিয়ারপুর শহীদ সালাহউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মরলহাট জনতা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও রত্নাই বগুলাবাড়ী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ।
লালমনিরহাট: গান্ধামারুয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ধুলঝাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দুহুলী এসসি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, দক্ষিণ ঘনশ্যাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও আমিনুর রহমান কলেজ।
অন্যান্য: পঞ্চগড়ের বোদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও আলহাজ তমিজ উদ্দিন কলেজ, গাইবান্ধার জুমারবাড়ী মহিলা কলেজ, রংপুরের কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও আমাদপুর কলেজসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
এই বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘যে ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কেউ পাস করতে পারেনি, তার প্রধান কারণ হলো এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেরই এমপিওভুক্তি নেই। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও অত্যন্ত কম। বেশিরভাগ কলেজে মাত্র ১, ২, ৩, ৪ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৫ জন পর্যন্ত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। ব্যতিক্রম হিসেবে সর্বোচ্চ ৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার নজিরও রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’
মনোয়ারুল হক/
