আর্থিক খাতের সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১ নভেম্বর): দেশের ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন এবং আর্থিক খাতের নিরাপত্তা বলয় সুদৃঢ় করতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) মাধ্যমে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ প্রদান করছে বিশ্বব্যাংক। সহজ শর্তের এই ঋণের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট-২’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত অর্থায়ন চুক্তি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মাঝে সম্পন্ন হয়েছে। উক্ত চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জাঁ পেসমে স্বাক্ষর করেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
দেশের ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন এবং আর্থিক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির এই প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনায় বাংলাদেশ ব্যাংক এর দেখভাল করবে।
প্রকল্পটি দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষা বেষ্টনী তৈরি, তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতকে নতুনভাবে সাজাতেই বিশ্বব্যাংকের এই অর্থায়ন। এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন দেশের আর্থিক খাতের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থা শক্তিশালী এবং ব্যাংকিং খাত সংস্কার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হবে।
প্রকল্পটির মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে আইসিটি অবকাঠামোর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তদারকি ক্ষমতা এবং আইসিটি কাঠামো শক্তিশালীকরণ, আইসিটি অবকাঠামো শক্তিশালীকরণে ক্রয় সক্ষমতা উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ, পারফরম্যান্সভিত্তিক শর্তাদির (পিবিসি) মাধ্যমে আর্থিক খাতের সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারকরণ এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান।
পাশাপাশি, ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, লেনদেনের সময়কাল কমানোসহ ব্যাংক রেজল্যুশন ও ব্যাংক পুনর্গঠনের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সুশাসন এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার উন্নয়ন ঘটানো হবে। সেই সঙ্গে ডিআইটিএফের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সার্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতা অর্জনও এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
উত্তোলিত এই ঋণের বিপরীতে বার্ষিক দেড় শতাংশ হারে সুদ পরিশোধ করতে হবে। অন্যদিকে, অনুত্তোলিত ঋণের ওপর সর্বোচ্চ ০ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিটমেন্ট ফি নির্ধারিত রয়েছে। পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড বা রেয়াতকালসহ সর্বমোট ২৫ বছরের মধ্যে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। এই অর্থায়ন মূলত বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যকার সুদৃঢ় অংশীদারিত্বের বহিঃপ্রকাশ। বর্তমানে অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতের অগ্রগতি, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতের বিকাশসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন সফলভাবে চলমান রয়েছে।
মনোয়ারুল হক/
