জার্মানিতে মূল্যস্ফীতি ও ব্যয়সংকটে জেন জির বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (১ নভেম্বর): জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ প্রশাসনের নীতিমালার প্রতিবাদে দেশজুড়ে তরুণ প্রজন্মের ‘জেন জি দায়িত্ব নিক’ ক্যাম্পেইনের ডাকে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সড়কে নেমে আসেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতের দিকে জার্মানির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক উত্তেজনা ও সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ, হামবুর্গ ও কোলোনসহ দেশটির মোট চৌত্রিশটি বড় শহরে এই আন্দোলনের প্রভাব পড়ে এবং স্বাভাবিক জনজীবন অনেকাংশে বাধাগ্রস্ত হয়। আন্দোলনকারীরা সরকারের জনকল্যাণমূলক বাজেট কমিয়ে অতিরিক্ত সামরিক খাতে অর্থ বরাদ্দের তীব্র সমালোচনা করেন। পাশাপাশি তারা তরুণ সমাজের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ এবং সরকারি বিভিন্ন খাতের বাজেট কর্তনের তীব্র প্রতিবাদ জানান।

অতিরিক্ত জীবনযাত্রার খরচ ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে জীবিকা নির্বাহের জন্য বাধ্য হয়ে পার্ট-টাইম পেশায় যুক্ত হতে হচ্ছে। এই দ্বিমুখী চাপের ফলে সারা দেশে প্রাতিষ্ঠানিক চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবসাদ এবং তীব্র আর্থিক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এ ছাড়া, বাধ্যতামূলক সামরিক নীতি পুনরায় চালুর সরকারি উদ্যোগ এবং সমাজকে যুদ্ধের উপযোগী করে তোলার সামগ্রিক প্রচেষ্টা এই বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, সামরিক খাতে বিপুল পরিমাণ ইউরো ব্যয় করার কারণে সরাসরি জনকল্যাণমুখী খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তহবিলের সংকটে পড়ছে, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অবকাঠামো মুখ থুবড়ে পড়ছে।

দিবাভাগের জমায়েতগুলো মূলত শান্তিপূর্ণ থাকলেও রাত গড়ানোর সাথে সাথে বিভিন্ন শহরের পরিস্থিতি দাঙ্গার রূপ নেয়। ফ্রাঙ্কফুর্টে মুখ ঢাকা কিছু উচ্ছৃঙ্খল দল জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল, কাচের বোতল ও আতশবাজি নিক্ষেপ করে এবং অন্তত দুটি সুপারমার্কেট বা খুচরা বিপণিবিতানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হামবুর্গ শহরে রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি করে আগুন জ্বালানো এবং কয়েকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জলকামান ও পেপার স্প্রে ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। এই সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং ফ্রাঙ্কফুর্ট, হামবুর্গ ও কোলোন থেকে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

রাতের এই সহিংসতার সাথে নিজেদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে আয়োজকরা জানিয়েছেন যে এই কর্মসূচিটি মূলত একটি সম্পূর্ণ অহিংস আন্দোলন হিসেবেই শুরু করা হয়েছিল। শিক্ষাঙ্গনে পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব রক্ষা, জলবায়ু সুরক্ষা নীতি বাস্তবায়ন এবং রাজনীতিতে তরুণদের যথাযথ অংশগ্রহণ তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য।

দেশটির চৌত্রিশটি শহরে মোট বিক্ষোভকারীর উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের তথ্যে ভিন্নতা রয়েছে। আয়োজক পক্ষ প্রথমে ১ লাখ ৮২ হাজার মানুষের উপস্থিতির কথা বললেও পরবর্তীতে তা সংশোধন করে সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার জন অংশ নিয়েছেন বলে নতুন হিসাব প্রকাশ করে।

অন্যদিকে, বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখের স্থানীয় প্রশাসনের সূত্র অনুযায়ী, প্রধান এই তিনটি শহরে মোট আন্দোলনকারীর সংখ্যা ছিল মোটে ১৮ হাজার, যা আয়োজকদের দাবি করা ৩৬ হাজার সংখ্যার ঠিক অর্ধেক।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতের অরাজকতার সময় ফ্রাঙ্কফুর্টের ব্যস্ততম ডি জেইল শপিং এলাকায় বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ বেশ কয়েকটি দোকানের কাচ ভেঙে চুরমার করে এবং কমপক্ষে দুটি প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরো এলাকা কর্ডন করে নেয় এবং সাধারণ পথচারীদের দ্রুত শহরটির কেন্দ্রস্থল ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। সূত্র: এনডিটিভি

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ