নির্বাচনের আগে হামলার আশঙ্কা নেতানিয়াহুর: কৌশল নাকি হুমকি?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (৩০ সেপ্টেম্বর): আসন্ন ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলে নতুন করে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ভোটের আগে দেশের ‘শত্রুরা’ হামলার অপচেষ্টা চালাতে পারে। তবে এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ না করায় বিরোধী দলগুলো তার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ইস্যুকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের বরাত দিয়ে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য সামনে এসেছে।
সম্প্রতি তেল নফ বিমানঘাঁটি পরিদর্শনের সময় এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু জানান, তাদের কাছে এমন কিছু গোয়েন্দা ইঙ্গিত রয়েছে যা থেকে বোঝা যায় নির্বাচনের আগে শত্রুপক্ষ আক্রমণ চালাতে পারে। বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ইসরায়েলের দীর্ঘ হাত যেকোনো সময় যেকোনো প্রান্তে পৌঁছে যেতে পারে, তাই তাদের সঙ্গে কেউ যেন বাড়াবাড়ি না করে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই দাবির পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের দল ইয়াশার এবং বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এ বিষয়ে জরুরি নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ের দাবি জানান। তাদের প্রশ্ন—এটি কি প্রকৃত কোনো হুমকি, নাকি নির্বাচন প্রভাবিত করার কোনো রাজনৈতিক চাল? একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটস পার্টির চেয়ারম্যান ইয়ার গোলানও নেতানিয়াহুর এমন অস্পষ্ট বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।
এদিকে কান, হারেৎজ ও আর্মি রেডিওর সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে ইসরায়েলে হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তাদের নজরে নেই। যে কারণে সেনাবাহিনী অতিরিক্ত কোনো সতর্কতা বা সেনা মোতায়েনেরও প্রয়োজন মনে করেনি।
পরে তীব্র সমালোচনার মুখে মঙ্গলবার রাতে লাপিদ ও নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে লাপিদ জানান, সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে তিনি কড়া ভাষায় বলেন, আইডিএফের ঘাঁটি বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলো কোনো রাজনৈতিক ভিডিও বানানোর মাধ্যম হওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি, সেনাসংকট দূর করতে অবিলম্বে ১৫ হাজার অতি-অর্থডক্স তরুণকে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ দেন তিনি। লাপিদ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, যেকোনো মূলপূর্ব নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
অপরদিকে, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি উল্টো লাপিদের সমালোচনা করে দাবি করেছে যে, ব্রিফিং শেষ হওয়ার মাত্র দুই মিনিট পরই লাপিদ আগে থেকে তৈরি করা রাজনৈতিক বিবৃতি প্রকাশ করেছেন।
বিতর্কে যোগ দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বি’ইয়াখাদ পার্টির নেতা নাফতালি বেনেটও। তেল আবিবের হোস্টেজেস স্কয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু নিজেই দেশের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছেন। বিশেষ করে অতি-অর্থডক্স শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে ছাড় দেওয়ার সরকারের চলমান উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। এছাড়াও ৭ অক্টোবরের হামলার জন্য দায়ী নেতৃত্বের ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন বেনেট।
জিম্মি মাতান জাঙ্গাউকারের মা-ও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দায়মুক্তির অপচেষ্টা ও বিশ্বব্যাপী পাওয়া পূর্ব সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়ে মন্ত্রীদের নিয়ে একটি জরুরি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকার পরিকল্পনা থাকলেও সেই বৈঠকের স্থান নির্বাচন নিয়ে কর্মকর্তাদের মাঝে সংশয় তৈরি হয়েছিল।
উল্লেখ্য, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের জনমত জরিপে নেতানিয়াহু ও বিরোধীদের জোট সমানে সমান অবস্থানে রয়েছে। টাইমস অব ইসরায়েলের জরিপ অনুযায়ী, এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে উভয় জোটই ৫৩টি করে আসন পেতে পারে, যেখানে আরব দলগুলোর অবস্থান নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল
মনোয়ারুল হক/
