বিশ্বশান্তি ও মানবতার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো বক্তব্য
নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২৫ সেপ্টেম্বর): জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বশান্তি, মানবতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পক্ষে জোরালো বক্তব্য রেখেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। স্থানীয় সময়ে নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণ প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন কৌশলের পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে কথা বলেছেন।’
তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শিশু, নারী, তরুণসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণে সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। এর অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ই-হেলথ কার্ড এবং ভবিষ্যতে ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মাহদী আমিন আরও জানান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও পরিবেশসহ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বিভিন্ন খাতের রূপরেখা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘২০ মিনিটের বেশি দীর্ঘ এই বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কেবল বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বই করেননি; বরং তিনি বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পক্ষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।’
মাহদী আমিন জানান, জাতিসংঘ সফরের তৃতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী বহুপাক্ষিক, দ্বিপাক্ষিক ও উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেন। এসব কর্মসূচিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা, পরিবেশ রক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার এবং বিশ্বশান্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
তিনি বলেন, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক সংযোগ সুদৃঢ়করণ, জনগণের মধ্যে যোগাযোগের পাশাপাশি সমতা, ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খনন এবং পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার মতো যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়াও, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্য অর্জনে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট চারটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন বলে জানান মাহদী আমিন।
স্বাস্থ্যবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমানো এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী কয়েক বছরে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এর মধ্যে ৮০ হাজার নারী এবং মিডওয়াইফারি সেবায় ২৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদার মানবিক ভূমিকার এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদানের জন্য বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি জানান, জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের জোরালো ভূমিকারও উচ্চ প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের বহুপাক্ষিক কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বিশ্বশান্তি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিভিন্ন দেশের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, এবারের জাতিসংঘ সফরের প্রতিটি দিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামীকাল সফরের শেষ কর্মদিবসেও তাঁর একাধিক কর্মসূচি রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মনোয়ারুল হক/
