বেহেশতের লোভ দেখিয়ে নয়, উন্নয়নের মাধ্যমেই ভোট চাইবে বিএনপি
চট্টগ্রাম ব্যুরো, এবিসিনিউজবিডি, (২৪ সেপ্টেম্বর): জনগণকে বেহেশতের লোভ দেখিয়ে নয়, বরং বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন ও কাজের মাধ্যমেই আগামীতে ভোট চাওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে একটি দল ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে। অতীতে এই অঞ্চলেও বেহেশতে নেওয়ার কথা বলে ভোট চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বেহেশত তো দূরের কথা, এমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল যে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছিল। সে সময় অনেকে শুধু লোকদেখানো উপস্থিতি ও অভিনয় করলেও মানুষের প্রকৃত উপকারে এগিয়ে আসেনি।’
তারেক রহমানের ত্রাণ কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো রাজনৈতিক নাটক করতে বন্যাকবলিত এলাকায় যাননি। বাঁশখালীর নিকটবর্তী এলাকায় আয়োজিত কার্যক্রমে বিপুল মানুষের উপস্থিতিতে নতুন ঘর নির্মাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকদেখানো সাহায্য প্রদান ও নগদ অর্থ বিতরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দুর্যোগের মুহূর্তে নগদ টাকার চেয়ে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও স্যালাইনের প্রয়োজন বেশি থাকে।
বিএনপি ও জামায়াতের অতীত সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর বিভিন্ন স্থানে নানা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০১ সালেও জোটগতভাবে সরকার পরিচালিত হয়।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সমস্যাগুলো বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদী জটিলতার ফল। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত সাত মাসে পরিস্থিতি উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যেখানে ব্যর্থতা রয়েছে, তা স্বীকার করে নিয়ে জনগণের কাছে দুঃখপ্রকাশও করা হয়েছে। সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে জ্বালানি খাতের সংকট নিরসনে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
পাঁচ বছর পর পুনরায় জনগণের রায়ের মুখোমুখি হওয়ার কথা উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমরা আপনাদের কাছে কোনো কাল্পনিক লোভ নিয়ে ভোট চাইতে যাব না। বরং বিদ্যুৎ, গ্যাস, রাস্তাঘাট, সেতু নির্মাণ, শিক্ষা ও ক্রীড়া খাতের দৃশ্যমান উন্নয়নের হিসাব দিয়েই আপনাদের সমর্থন চাইব।’
অনুষ্ঠানে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের জনকল্যাণমূলক এই প্রকল্পের আওতায় পর্যায়ক্রমে দেশের চার কোটি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কার্ড পেতে সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের ঘুষ বা হয়রানির শিকার হতে হবে না। এ সময় তিনি আরও জানান, সরকারের এই বিশেষ সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ডের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
বাঁশখালীর বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের ভয়বহ জলোচ্ছ্বাসের পর স্থানীয় বাসিন্দারা এমন আকস্মিক ও বড় ধরনের দুর্যোগের মুখে পড়েননি। ভারী বর্ষণে বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার মানুষ অত্যন্ত অসহায় হয়ে পড়েছিলেন।
অনুষ্ঠানে বাঁশখালীর সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০টি পরিবারকে পুনর্বাসন ও ঘর নির্মাণের জন্য পরিবারপ্রতি ৩০ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। সরকারি উদ্যোগে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান শামীম, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইদ্রিস মিয়াসহ স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও দলীয় নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মনোয়ারুল হক/
