নতুন পাঠ্যবই সরবরাহে ধীরগতি, ২৪ প্রেসের কার্যক্রম তদারকিতে
নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৮ নভেম্বর): আসন্ন শিক্ষাবর্ষের জন্য নির্ধারিত ৯ লাখ ৯ হাজার ১২৩ কপি বই ছাপার আদেশ পেলেও এখন পর্যন্ত এক কপিও সরবরাহ করতে পারেনি সুবর্ণা প্রিন্টার্স। একই পরিস্থিতি গ্লোবাল প্রিন্টিং ইকুইপমেন্ট এবং ইন্টারনেট ওয়েভ প্রিন্টার্সের ক্ষেত্রেও—এই দুই প্রেসও কোনো বই পাঠাতে পারেনি। এর মধ্যে ইন্টারনেট ওয়েভ ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৯৭৩ কপি এবং গ্লোবাল প্রিন্টিং ২ লাখ ৯৭ হাজার ৪০ কপি বই ছাপার কার্যাদেশ পেয়েছিল। কেবল এই তিনটি প্রতিষ্ঠানই নয়, এবারের পাঠ্যবই ছাপার কাজ পাওয়া মোট ১১৩টি প্রেসের মধ্যে ২৪টি প্রেসই নির্ধারিত অগ্রগতির তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাঠপর্যায়ে বই পৌঁছানো নিশ্চিত করতে এই প্রেসগুলোর কার্যক্রম সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানের জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই বোর্ডের (এনসিটিবি) চার শীর্ষ কর্মকর্তাকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট ২৪ প্রেসের মালিকদের আজ এনসিটিবি কার্যালয়ে তলব করা হয়েছে, যেখানে কাজ বিলম্বিত হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হবে। এদিকে প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই মুদ্রণের কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে থাকলেও মাধ্যমিক স্তরের অর্ধেকের বেশি বইয়ের ছাপা এখনো বাকি রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনসিটিবির নির্ধারিত রূপরেখা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে সব পাঠ্যবই হাতে পাওয়া নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এনসিটিবির অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, সরকার ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের সকল পাঠ্যবই আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিতে চায়। গত ৪ নভেম্বর থেকে বই মুদ্রণে পিছিয়ে থাকা এসব প্রেস তদারকির দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে অর্পণ করা হয়। নিযুক্ত কর্মকর্তারা নিয়মিত প্রেস পরিদর্শনের পাশাপাশি মুদ্রিত বইয়ের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও তদারকি করবেন। এনসিটিবির সচিবের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ওই তারিখ থেকেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেષণে দেখা যায়, পিছিয়ে থাকা ২৪টি প্রেসের অর্ধেকের বেশি বই সরবরাহ সম্পন্ন করেছে মাত্র ৬টি প্রেস। অন্যদিকে, অর্ধেকের কম বই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মোট বরাদ্দকৃত বইয়ের এক-তৃতীয়াংশ তথা ৩৩ শতাংশ বই দিতে ব্যর্থ হয়েছে ১০টি প্রেস। এই প্রেসগুলোর তালিকায় রয়েছে—বর্ণমালা প্রেস, গ্লোবাল প্রিন্টিং ইকুইপমেন্ট, কচুয়া প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স, লেটার অ্যান্ড কালার, ইন্টারনেট ওয়েভ প্রিন্টার্স, মোল্লা প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স, সোহাগ প্রিন্টার্স, পলি প্রিন্টিং প্রেস, সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিসিং এবং সুবর্ণা প্রিন্টার্স।
এনসিটিবির তথ্যানুযায়ী, সংস্থাটির সচিব অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ ফিরোজ আল ফেরদৌসকে মোট ৬টি প্রেস তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস এক কোটি ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭০৪ কপি বইয়ের বিপরীতে ৫৬ লাখ ১০ হাজার ৬৯০ কপি বই সরবরাহ করেছে, যা তাদের মোট কাজের ৫৩.৭৪ শতাংশ। বর্ণমালা প্রেস ১৩ লাখ ৪৫ হাজার ২১৮ কপি বইয়ের মধ্যে সরবরাহ করেছে ৪ লাখ ২৩ হাজার ৪৫১ কপি (২০.৫৮ শতাংশ)। কচুয়া প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স ৪৩ লাখ ১৫ হাজার ১০৬ কপি বইয়ের মধ্যে ১৩ লাখ ২৯ হাজার ৬৩৫ কপি (৩১.৫৪ শতাংশ) সরবরাহ করেছে। কর্ণফুলী আর্ট প্রেস এক কোটি ৩৭ লাখ ৩৩ হাজার ২৫০ কপি বইয়ের মধ্যে ৬৯ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮৩ কপি বা ৫০.৯৫ শতাংশ এবং সরকার প্রেস ২৪ লাখ ৬২ হাজার ৯৪ কপি বইয়ের মধ্যে ৯ লাখ ২১ হাজার ৭৩০ কপি বা ৩৭.৪৪ শতাংশ সরবরাহ করেছে। এছাড়া, এখনো কোনো বই সরবরাহ করতে না পারা গ্লোবাল প্রিন্টিং ইকুইপমেন্টের তদারকির দায়িত্বও অর্পণ করা হয়েছে এনসিটিবির সচিবের ওপর।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ৬টি প্রেসের মধ্যে তিনটি প্রেসই একই পরিবারের মালিকানাধীন এবং তারা এবারের পাঠ্যবই মুদ্রণের সিংহভাগ কাজ বাগিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে অগ্রণী প্রেসের মালিক কাওসারুজ্জামান রুবেল এবং কর্ণফুলী আর্ট প্রেসের মালিক হাসানুজ্জামান রবিন সম্পর্কে আপন ভাই। আর কচুয়া প্রেসের মালিক হুমায়ুন কবির তাদের ভগ্নিপতি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাঠ্যবই মুদ্রণ খাতে তারা অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত স্টাফ জাহাঙ্গীর আলম ওরফে ‘পানি জাহাঙ্গীর’-এর আশীর্বাদে তারা এনসিটিবিতে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে তারা তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলেরও বিশেষ কৃপাধন্য হয়ে ওঠেন। গত সরকারের আমলে এনসিটিবির অধিকাংশ পাঠ্যবই এই চক্রই মুদ্রণ করত। নির্ধারিত সময়ের ব্যত্যয় ঘটিয়ে দেরিতে বই সরবরাহ এবং নিম্নমানের কাগজ ব্যবহারের অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। এমনকি এবারের কার্যক্রমেও তাদের বিরুদ্ধে নিম্নমানের বই ছাপার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এবং ইতোমধ্যে তাদের উৎপাদিত লক্ষাধিক ফর্মা নষ্ট করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, এবারের আলোচিত বইয়ের দরপত্র ফাঁসের ঘটনায়ও এই চক্রটি জড়িত ছিল বলে জোরালো অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু আমিন আর্ট প্রেস, বর্ণালী অফসেট প্রিন্টার্স, ব্রাইট প্রিন্টিং প্রেস লিমিটেড, লেটার অ্যান্ড কালার, মেসার্স রেজা প্রিন্টার্স এবং প্রমা প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স লিমিটেডের তদারকির দায়িত্ব পেয়েছেন। এই প্রেসগুলোর মধ্যে আমিন আর্ট প্রেস ৬৩ লাখ ১২ হাজার ৯০০ বইয়ের মধ্যে ৬৭.৭৭ শতাংশ, বর্ণালী অফসেট প্রিন্টার্স ১৫ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৬ কপি বইয়ের মধ্যে ৬৮.৮৮ শতাংশ, ব্রাইট প্রিন্টিং প্রেস লিমিটেড ৩৩৯ লাখ ৯৫ হাজার ৭১৫ কপি বইয়ের মধ্যে ৪৯.৬৪ শতাংশ, লেটার অ্যান্ড কালার ৬৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩১০ কপি বইয়ের মধ্যে ২৮.৪৯ শতাংশ এবং মেসার্স রেজা প্রিন্টার্স ৩৬ লাখ ৫৯ হাজার ২৪৯ কপি বইয়ের মধ্যে ৪২.৩৩ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে।
এনসিটিবির সদস্য (অর্থ) আজীজ হায়দার ভূঁইয়া আরও ৬টি প্রেসের তদারকির দায়িত্ব পেয়েছেন। এর মধ্যে অনুপম প্রিন্টার্স লিমিটেড ৮ লাখ ৮২ হাজার ৫৮৭ কপি বইয়ের মধ্যে ৩৮.৫০ শতাংশ, বলাকা প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স ২১ লাখ ১৮ হাজার ৮৯৩ কপি বইয়ের মধ্যে ৩৬.০৩ শতাংশ, মোল্লা প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স ৩৬ লাখ ৫৯ হাজার ২৪৯ কপি বইয়ের মধ্যে ৩৩.৯০ শতাংশ, নুরুল ইসলাম প্রিন্টিং প্রেস ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ কপি বইয়ের মধ্যে ৬৯.২৯ শতাংশ এবং সোহাগ প্রিন্টার্স ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৩১৬ কপি বইয়ের মধ্যে ২৬.৬৪ শতাংশ মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করেছে। একটিও বই দিতে না পারা ইন্টারনেট ওয়েভ প্রিন্টার্সকেও এই কর্মকর্তার তদারকি তালিকায় রাখা হয়েছে।
এছাড়া পলি প্রিন্টিং প্রেস, সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং, সীমান্ত প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স, সাগরিকা প্রিন্টার্স, সুবর্ণা প্রিন্টার্সসহ মোট ৫টি প্রেস তদারকির দায়িত্ব পেয়েছেন এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ. কে. এম শওকত আলী খান। এর মধ্যে পলি প্রিন্টিং প্রেস ২৮ লাখ ৬১ হাজার ৪১৬ কপি বইয়ের ২৪.৪৮ শতাংশ, সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার ৯৭৩ কপি বইয়ের ২১.৫৩ শতাংশ, সীমান্ত প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স ৪৩ লাখ ৭০ হাজার ৩৩ কপি বইয়ের ৪৫.৩৫ শতাংশ এবং সাগরিকা প্রিন্টার্স ১৩ লাখ ৯০ হাজার ৪৫৬ কপি বইয়ের ৪৬.৬৯ শতাংশ সরবরাহ করেছে। তবে এই গ্রুপের সুবর্ণা প্রিন্টার্স ৯ লাখ ৯ হাজার ১২৩ কপি বইয়ের বিপরীতে এখনো একটি বইও দিতে পারেনি।
প্রাথমিক স্তরের মুদ্রণ শেষ পর্যায়ে থাকলেও মাধ্যমিকের অর্ধেকের বেশি কাজ এখনো বাকি। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আগামী ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত বই মুদ্রণ ও সরবরাহ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও এনসিটিবি চলতি নভেম্বর মাসের মধ্যেই প্রক্রিয়াটি শেষ করতে নানামুখী তৎপরতা চালালেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সন্দেহ কাটছে না।
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০ কপি বইয়ের মধ্যে ৫৫ লাখ ৩০ হাজার ২৪০ কপি ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে, যা মোট অর্ডারের ৯৬.৫০ শতাংশ। একইভাবে প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬ কপি বইয়ের মধ্যে ৭ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার ২১৩ কপি (৯৬.২৮ শতাংশ) এবং ইবতেদায়ি স্তরে (প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি) ৪ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭০ কপি বইয়ের মধ্যে ৩ কোটি ৩০ লাখ ৩১ হাজার ৯৯২ কপি (৭৯.৩৩ শতাংশ) মাঠপর্যায়ে পৌঁছেছে।
তবে মাধ্যমিক স্তরের বই সরবরাহের হার মাত্র ৫৬.১২ শতাংশ। ১৭ কোটি ৯৫ লাখ ৪৩ হাজার ১৮ কপি মাধ্যমিক বইয়ের বিপরীতে মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে ১০ কোটি ৭৬ লাখ ৯ হাজার ৫৯৬ কপি। অর্থাৎ প্রায় ৭ কোটিরও বেশি মাধ্যমিকের বই ছাপার কাজ এখনো বাকি রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মূলত নবম ও দশম শ্রেণির বইয়ের কাজই সবচেয়ে বেশি বাকি আছে। অনেক প্রেস এখনো এই দুই শ্রেণির বইয়ের মুদ্রণকাজ শুরুই করতে পারেনি, আর যারা শুরু করেছে তাদের অগ্রগতির হার অত্যন্ত নগণ্য। প্রাথমিকের বইয়ের ফর্মা কম থাকায় তা দ্রুত মুদ্রণ করা সম্ভব হলেও মাধ্যমিক স্তরের বইয়ে ফর্মার পরিমাণ অনেক বেশি থাকায় তা সময়সাপেক্ষ।
এদিকে এনসিটিবির সরবরাহ সংক্রান্ত তথ্যের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সূত্র। অনেক জেলার শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের নির্দিষ্ট উপজেলায় প্রকৃত অর্থে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বই এসে পৌঁছেছে।
মুদ্রণ শিল্প সমিতির উপদেষ্টা তোফায়েল খান এ প্রসঙ্গে জানান, প্রাথমিকে ফর্মা কম থাকায় কাজ দ্রুত শেষ হয়, কিন্তু মাধ্যমিকে বেশি ফর্মার কারণে সময় লাগে। বর্তমান অগ্রগতির হার বিবেচনা করলে নির্ধারিত সময়ে সম্পূর্ণ বই পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে এনসিটিবি আন্তরিকভাবে তদারকি করলে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে বর্তমানে যে পরিমাণ বই পৌঁছানোর দাবি করা হচ্ছে, বাস্তবে তা পৌঁছেছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার।
সার্বিক বিষয়ে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু জানান, প্রেসগুলোর কাজে যাতে কোনো শৈথিল্য বা গাফিলতি না থাকে, তা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
মনোয়ারুল হক/
