বন্দি বিনিময় চুক্তিতে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৮ নভেম্বর): বন্দি বিনিময় চুক্তির কাঠামোর আওতায় শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

রবিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিচারকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘জুডিশিয়াল ইন্টিগ্রিটি ওয়ার্কশপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন আইনমন্ত্রী।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়গুলো টেনে এনে আইনমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও গণহত্যায় সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে যেমন সোচ্চার হতে হবে, তেমনি বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ অব্যাহত রাখতে হবে।

একাত্তরের মুক্তিসংগ্রামে শহীদ জাফর, জয়নাল, দীপালী সাহা, কাঞ্চন, রাফুন, বসুনিয়া, জিহাদ এবং ডা. মিলনের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন তিনি।

পাশাপাশি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও আনাসসহ চৌদ্দশতের বেশি মানুষের প্রাণহানি এবং প্রায় তিনশ মানুষের পঙ্গুত্ববরণ করার মর্মান্তিক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তিনি।

এ ধরনের সব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে সোচ্চার হওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আইনমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সমাজকে বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে বিভক্ত করা হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বুদ্ধিজীবী সমাজের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এত মানুষ প্রাণ হারালেন, অনেকে চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেলেন, অথচ তাদের অধিকার বা ন্যায়বিচার নিয়ে সেই অংশের পক্ষ থেকে কোনো জোরালো বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বিচার বিভাগের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় অঙ্গনের বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি নিয়েও আলোচনা করা অত্যন্ত জরুরি।

আইনমন্ত্রী বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বিচার বিভাগের সততা নিয়ে যে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, সেখানে মূলত আর্থিক দুর্নীতির দিকটিকেই বড় করে দেখা হয়েছে। কিন্তু বিচার বিভাগের সংকট ও অবনতির আরেকটি গভীর দিক হচ্ছে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি। আর্থিক দুর্নীতির চেয়েও এই বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা তথা গোটা দেশের জন্য বহুগুণে বেশি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে।

বিচারকদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী জানান, হাতেগোনা অতি অল্পসংখ্যক বিচারক হয়তো এহেন অনিয়মে জড়িত থাকতে পারেন। তবে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার ও প্রধান বিচারপতি কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

একই সঙ্গে বিচারকদের পেশাগত দায়বদ্ধতা, কঠোর পরিশ্রম, সততা এবং নানান প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও নিজেদের দায়িত্ব পালনের ইতিবাচক দিকগুলোও তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এছাড়া, আগামী ১৯ নভেম্বর আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যাসংক্রান্ত মামলার রায়ে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান আইনমন্ত্রী।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ