নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২৪ সেপ্টেম্বর): জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানি প্রেসিডেন্টের নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনে স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে আঞ্চলিক সংঘাতের জেরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী কর্মী, রেমিট্যান্স প্রবাহ, নৌপরিবহন খাত এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব কীভাবে এড়ানো যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন দুই নেতা। বৈঠক শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা জাতিসংঘকে সবসময় একটি নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গণ্য করে। মধ্যপ্রাচ্যে বা পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসরত প্রায় ৮০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীর নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়ে বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সংঘাত যদি দ্রুত শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে না হাঁটে, তবে দেশের প্রবাসী খাত ও রেমিট্যান্সের ওপর এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বৈঠকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় আটকে থাকা বাংলাদেশি কনটেইনার জাহাজের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইরানের প্রেসিডেন্টকে জানানো হয়েছে যে, দ্রুত কূটনীতির মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান হওয়া প্রয়োজন। যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজগুলো যেন নিরাপদে দেশে ফিরে আসতে পারে, সে বিষয়ে তেহরানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া চলমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংকটের কারণে বাংলাদেশ জ্বালানিসংকটের মুখোমুখি হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও ইরানি প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেছে বাংলাদেশ। প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের উত্থাপিত এই উদ্বেগগুলো অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং তাঁর সঙ্গে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা নোট করে নিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণে পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য অংশীদারেরাও বর্তমান পরিস্থিতিতে সোচ্চার হওয়ার জন্য ঢাকাকে আহ্বান জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই দায়িত্ববোধ থেকেই জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি ‘নরম মধ্যস্থতাকারী প্রভাব’ বা ‘সফট মিডিয়াম ইনফ্লুয়েন্স’ হিসেবে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন।
মনোয়ারুল হক/
