নজিরবিহীন কূটনৈতিক সৌজন্যে সি চিন পিংকে ট্রাম্পের অভ্যর্থনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (২৪ সেপ্টেম্বর): মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ডিসিতে রাষ্ট্রীয় সফরে আসা চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সরাসরি গিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ক্ষেত্রে সাধারণত বিদেশি অতিথিদের হোয়াইট হাউসে অভ্যর্থনা জানানোর রীতি থাকলেও, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে একটি নজিরবিহীন কূটনৈতিক সৌজন্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, চীনা প্রেসিডেন্টের বহনকারী বিমানটি মার্কিন বিমানঘাঁটি জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে অবতরণ করার পর সরাসরি বিমানের সিঁড়ির কাছে গিয়ে সির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ট্রাম্প। মেরিল্যান্ডে অবস্থিত এই সামরিক ঘাঁটিটি হোয়াইট হাউস থেকে প্রায় ১৩ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।

সফররত রাষ্ট্রপ্রধানদের হোয়াইট হাউসে অভ্যর্থনা জানানোই মার্কিন প্রেসিডেন্টদের দীর্ঘদিনের প্রচলিত অভ্যাস। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সফরকালে ট্রাম্প তাঁকে ওয়েস্ট উইংয়ের প্রবেশপথে স্বাগত জানিয়েছিলেন। এছাড়া চলতি বছরের এপ্রিলে হোয়াইট হাউসের সাউথ পোর্টিকোতে রাজা তৃতীয় চার্লসকে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল।

সাম্প্রতিক দশকগুলোতে ওয়াশিংটনের স্থানীয় বিমানবন্দরে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে বিদেশি নেতাকে স্বাগত জানানোর ঘটনা অত্যন্ত বিরল। মাঝে মাঝে ওয়াশিংটন এলাকার বিমানবন্দরে সফররত পোপদের অভ্যর্থনা জানানোর কিছু নজির রয়েছে।

ঐতিহাসিক তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ১৯৬২ সালে ওয়াশিংটন এলাকার বিমানবন্দরগুলোতে ব্যক্তিগতভাবে বেশ কয়েকজন বিদেশি নেতাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন, যার মধ্যে আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স উফুয়ে-বোয়িনিও ছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেবল পোপদের ক্ষেত্রেই এই ধারা দেখা গেছে; যেমন—২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ অ্যান্ড্রুজে পোপ ষোড়শ বেনেডিক্টকে এবং ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সেখানে পোপ ফ্রান্সিসকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি অ্যাক্সিওসকে জানান, ‘এই গ্রীষ্মে প্রেসিডেন্ট সি চীনে একটি ঐতিহাসিক সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আতিথ্য দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এই সপ্তাহে চীনা প্রতিনিধিদলকে পাল্টা সফরে স্বাগত জানিয়ে সেই আতিথেয়তার প্রতিদান দিচ্ছেন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ ও আমেরিকান জনগণের জন্য লাভজনক চুক্তি করতে প্রেসিডেন্ট যেকোনো নেতার সঙ্গেই সুসম্পর্ক গড়তে প্রস্তুত।’

সবমিলিয়ে, বিমানবন্দরের রানওয়েতে ট্রাম্পের এই অভ্যর্থনা পোপদের সফর ব্যতিরেকে অন্যান্য আন্তর্জাতিক অতিথিদের ক্ষেত্রে প্রায় বিলুপ্ত প্রায় একটি ঐতিহ্যকে পুনরায় ফিরিয়ে এনেছে।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ