ট্রাম্পের নৈশভোজে সস্ত্রীক প্রধানমন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২৩ সেপ্টেম্বর): নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত বিশেষ নৈশভোজে সস্ত্রীক অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্বনেতাদের সম্মানে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী পর্বসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতেও সক্রিয় উপস্থিতি ছিল প্রধানমন্ত্রীর।
নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সার্বিক বিষয় তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি, যেখানে দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা, জাতীয় স্বার্থ এবং জনগণের প্রত্যাশার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।
এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিয়োগ, রাজনৈতিক অংশীদারিত্ব এবং সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুরস্ক। এই সফরে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিক আশ্রয় নিয়ে আছেন। এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি এবারের সাইডলাইন বৈঠকগুলোতে গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘও।
অপরদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানান, বাংলাদেশে অফিশিয়াল কার্যালয় স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জনপ্রিয় প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা। শিক্ষা প্রসার, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ডিজিটাল খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দেশটির সঙ্গে সহযোগিতার নানামুখী সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফরে জাতিসংঘের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক বিনিয়োগ, বাণিজ্য প্রসার, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং পারস্পরিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতাই এসব বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
মনোয়ারুল হক/
