গাজা নিয়ে ট্রাম্পের কূটনীতিকে ‘লজ্জাজনক প্রদর্শনী’ বললেন মাখোঁ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (২৩ সেপ্টেম্বর): গাজায় এখন পর্যন্ত কোনো মানবিক করিডর চালু না হওয়ার ঘটনায় তীব্র হতাশা ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে জাহির করার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। আগামী মে মাসে নিজের প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এটিই ছিল তার সর্বশেষ ভাষণ।
ভাষণে মাখোঁ বলেন, ঠিক এক বছর আগে এই একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রায় এক ডজন দেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তখন অনেকেই কটাক্ষ করে বলেছিলেন, এই স্বীকৃতি কেবলই এক টুকরো কাগজ এবং এর মাধ্যমে মাটির বাস্তব পরিস্থিতির একবিন্দুও বদল ঘটবে না।
গাজার করুণ ও স্থবির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মুখে শান্তির বুলি আওড়ানো হলেও এখন পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তার পথ উন্মুক্ত করা হয়নি। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাসীর নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকা কতটা নৈতিক, সেই জোরালো প্রশ্নও রাখেন তিনি।
এদিকে মাখোঁর এমন বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার দীর্ঘ লড়াই বন্ধ করেছেন এবং সব জীবিত জিম্মিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন। এমনকি নিহত জিম্মিদের মরদেহও তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে গাজার জন্য ট্রাম্পের প্রণীত ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে বলেও জানান তিনি।
ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পরও প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারায় নিজ দেশ ফ্রান্সে নানা সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে মাখোঁকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিরুদ্ধে বেশ কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান নিয়েছে প্যারিস। এর অংশ হিসেবে কিছু নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলোতে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রক্রিয়াও শুরু করেছে দেশটি।
জাতিসংঘের ভাষণে পশ্চিম তীরের বর্তমান উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, সেখানে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে ফিলিস্তিনিদের বিভিন্ন মৌলিক অধিকার লুণ্ঠিত হচ্ছে। অথচ এটি স্পষ্ট সত্য যে, পশ্চিম তীরে কখনোই কোনো ধরনের তৎপরতা চালায়নি হামাস।
মাখোঁ আরও যোগ করেন, পশ্চিম তীরে যা ঘটে চলেছে, তা ফিলিস্তিনি জনগণের নিজস্ব অস্তিত্বের বৈধ অধিকারকে সম্মান জানিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে দিন দিন আরও বেশি দুরূহ করে তুলছে।
গত এক বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও ইসরায়েলের সঙ্গে ফ্রান্সের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন বেশ স্পষ্ট। এ প্রসঙ্গে মাখোঁ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইসরায়েল যদি মনে করে যে তাদের সব প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করলেই কেবল নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তবে সেটি একটি মারাত্মক ভুল ধারণা। তার মতে, এ ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপ বর্তমান এবং সুদূর ভবিষ্যৎ—উভয় ক্ষেত্রেই উল্টো ইসরায়েলের নিরাপত্তাকেই আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছিলেন ইমানুয়েল মাখোঁ। আগামী বছর ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারের এই অধিবেশনটি ছিল জাতিসংঘে তার বিদায়ী উপস্থিতি। সূত্র: রয়টার্স
মনোয়ারুল হক/
