মামদানির বাসভবনে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (২২ সেপ্টেম্বর): মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে গেছেন। স্থানীয় সময় সোমবার সেখানে দুই নেতা একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে ঐতিহাসিক এই বাসভবনের লনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তারা, যেখানে তাদের আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ উপস্থিত সবার নজর কাড়ে।
সোমবারের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মেয়র মামদানির পাশাপাশি ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস এবং মামদানির চিফ অব স্টাফ এল বিসগার্ড-চার্চ উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই নেতার শরীরী ভাষা স্পষ্টতই তাদের মধ্যে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। মেয়র মামদানি যখন বক্তৃতামঞ্চে কথা বলছিলেন, ট্রাম্প তখন পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার পর তিনি সস্নেহে মামদানির বাহুতে দুবার হাত রেখে উষ্ণতা প্রকাশ করেন।
নদীতীরবর্তী ঐতিহাসিক এই বাসভবনে আজ থেকে প্রায় ৪৫ বছর আগে সর্বশেষ কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট পা রেখেছিলেন। সে হিসেবে এটি ছিল সেখানে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম সফর। এর আগে সর্বশেষ ১৯৮১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান গ্রেসি ম্যানশনে মেয়র এড কোচের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর ঠিক আগে তার এই গ্রেসি ম্যানশনে যাওয়াকে মেয়র মামদানির প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ সম্মানের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘জোহরান মামদানি নিউইয়র্কের দারুণ একজন মেয়র হবেন। তার মধ্যে চমৎকার সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমি সেটিই আশা করি। আমি নিউইয়র্কের ভালো চাই, দেশের ভালো চাই… আমি চাই তিনি একজন সফল মেয়র হোন।’
বৈঠক প্রসঙ্গে মেয়র মামদানি জানান, তাদের মধ্যে বেশ বিস্তৃত পরিসরে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় সাশ্রয়ী আবাসন এবং অভিবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে। তবে দুই নেতার মধ্যকার কিছু মতবিরোধের বিষয় নিয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
কেন তিনি ট্রাম্পকে নিজের বাসভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মামদানি জানান, নিউইয়র্কবাসীর কল্যাণে গঠনমূলক কিছু করতে পারেন, এমন যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গেই তিনি কাজ করতে প্রস্তুত। কুইন্সের সানিসাইড ইয়ার্ডে শত শত নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণের বিষয়ে তাদের দুজনেরই অভিন্ন আগ্রহ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মামদানি আরও বলেন, ‘নিউইয়র্কবাসীকে কীভাবে নিরাপদ রাখা যায় এবং অভিবাসী নিউইয়র্কবাসীদের সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়—এ বিষয়ে আমি আমার দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেছি। পাশাপাশি, অভিবাসী নিউইয়র্কবাসী, বিশেষ করে হাইতিয়ানরা যে আমাদের শহরের সামাজিক কাঠামো ও অর্থনীতিতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, সে কথাও আমি জোরালোভাবে বলেছি।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
