সরকার ফ্যাসিবাদী চরিত্র অর্জনের চেষ্টা করছে: জামায়াত সেক্রেটারি
নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৭ সেপ্টেম্বর): জাতীয় সংসদে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোর খাটিয়ে বর্তমান সরকার ফ্যাসিবাদী রূপ ধারণের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। যথাযথভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ না বানিয়ে এবং জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করে একপাক্ষিক উপায়ে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনগুলোতে সহযোগিতা করুন। আমাদের প্রতিটি কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হবে। কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, বিশৃঙ্খলা বা ভাঙচুরের কোনো পরিকল্পনা ১১ দলীয় ঐক্যের নেই।
সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে তিনি আরও বলেন, কেউ যদি ইচ্ছেকৃতভাবে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে চায় এবং ১১ দলের নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চালায়, তবে তাদের সেই দায়িত্বজ্ঞানহীন পথ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। বিনা কারণে উস্কানি দিয়ে শান্ত দেশকে অশান্ত করে তুলবেন না।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাপট দেখিয়ে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার নীতির সমালোচনা করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, মেজরিটির শক্তি কাজে লাগিয়ে কখনোই জনগণের আস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ঠিক হবে না। এভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ক্ষমতা ফলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার ফন্দি আঁটা হচ্ছে। সব ক্ষেত্রে এমন আধিপত্য দেখাতে গেলে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত; কারণ এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার অহংকার দেখাতে গিয়েই অতীতে অনেকে একনায়ক ও ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠেছিল।
লংমার্চের প্রস্তুতি ও রুট
প্রেস ব্রিফিংয়ে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুর অভিমুখে নির্ধারিত বহুল আলোচিত লংমার্চের সার্বিক প্রস্তুতি ও পথসভার নির্ধারিত রুট ঘোষণা করা হয়। মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সকাল ৮টায় লংমার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে রংপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। পথিমধ্যে গাজীপুর এবং টাঙ্গাইলের নগর জলফই মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর যমুনা সেতু অতিক্রম করে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ে জোহরের নামাজ আদায় ও বিরতি নেওয়া হবে এবং পরিশেষে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে লংমার্চের সমাপনী হবে।
তিনি জানান, লংমার্চের সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে ৮ থেকে ৯টি বিশেষ সেল, নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল, মেডিকেল টিম, অ্যাম্বুলেন্স, মিডিয়া টিম এবং সাংস্কৃতিক দলের গাড়ি বহরের পেছনের অংশে যুক্ত থাকবে। সুদীর্ঘ এই যাত্রাপথে রান্নার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের নিজ দায়িত্বে শুকনো খাবার, খাবার পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সঙ্গে রাখার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ এবং জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মনোয়ারুল হক/
