ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (১৭ সেপ্টেম্বর): রাশিয়ার মস্কো থেকে নিয়মিত অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি আমদানির জবাব হিসেবে ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন আইনসভার উভয় কক্ষে রাশিয়াবিরোধী কঠোর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি বিল পাস হওয়ার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের এই বিলটি সম্প্রতি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) পাস হয়েছে। এর আগে এটি মার্কিন সেনেটেও অনুমোদন পেয়েছিল। এখন বিলটি চূড়ান্ত স্বাক্ষরের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টেবিলে রয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২৬২-১৫৯ ভোটে বিলটি পাস হয়। এর ফলে হোয়াইট হাউস এখন থেকে রাশিয়া থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ তেল ও গ্যাস আমদানিকারক শীর্ষ পাঁচটি দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক বসানোর আইনি ক্ষমতা অর্জন করতে যাচ্ছে। মার্কিন আইনপ্রণেতারা স্পষ্টতই জানিয়েছেন যে, মস্কোর সামরিক কার্যক্রমে অর্থায়ন বন্ধ করতেই মূলত এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিলে যা থাকছে এবং ভারতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব

সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা: নতুন এই আইনের আওতায় রুশ জ্বালানি আমদানিকারক শীর্ষ পাঁচটি দেশকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থ প্রাপ্তি ঠেকাতে বিশেষ করে নয়াদিল্লি ও বেইজিংকে ঘিরেই এই শুল্কের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

বাণিজ্যে বড় ধাক্কা: বিলটি আইনে পরিণত হলে মার্কিন বাজারে প্রবেশ করা ভারতীয় পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্কের বোঝা চাপবে। এর ফলে কম দামে রুশ তেল আমদানির যে অর্থনৈতিক সুবিধা এতদিন ভারত পেয়ে আসছিল, তা অনেকটাই নিষ্ফল হয়ে যেতে পারে।

অন্যান্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা: রাশিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তা, বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং মস্কোর গোপন তেলের বহর বা ‘শ্যাডো ট্যাংকার’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে এই বিলে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে এতে।

এদিকে, বিলটির শুল্ক সংক্রান্ত বিধান নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে কিছুটা বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাট দলের একটি বড় অংশের শঙ্কা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে এই ধরনের একচ্ছত্র শুল্ক আরোপের ক্ষমতা তুলে দেওয়া হলে তা দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে।

এখন পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। তিনি এই বিলে সই করে ভারতের ওপর সরাসরি শুল্ক কার্যকর করেন, নাকি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক স্বার্থের কথা মাথায় রেখে নয়াদিল্লিকে বিশেষ কোনো ছাড় দেন—এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ