তিতাসের ৩ কূপ প্রতিদিন গ্রিডে দেবে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, (১৭ সেপ্টেম্বর): দেশে জ্বালানি খাতের বিদ্যমান সংকটের মাঝেই স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। আগামী ছয় মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক অতিরিক্ত ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহাসিক তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে খননাধীন নতুন তিনটি কূপ থেকে এই গ্যাস উত্তোলনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
বর্তমানে দেশের মোট চাহিদার ২৭ শতাংশ গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিজিএফসিএল উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৯, ৩০ এবং ৩১ নম্বর নতুন কূপ খননের কাজ হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে ২৯ ও ৩১ নম্বর কূপের খনন কার্যক্রম ইতিমধ্যে এগিয়ে চলেছে।
বিশেষ করে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় গত ১৯ এপ্রিল কাজ শুরু হওয়া ৩১ নম্বর কূপটি দেশের প্রথম ও সর্বাপেক্ষা গভীর অনুসন্ধানমূলক কূপ। এর মাধ্যমেই প্রচলিত গ্যাস অনুসন্ধানের ধারা ভেঙে গভীরতর স্তরে অনুসন্ধানের নতুন যুগের সূচনা হচ্ছে। প্রায় ৫ হাজার ৬০০ মিটার পরিকল্পিত গভীরতার এই অতি উচ্চচাপ ও উচ্চতাপের কূপে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৯২০ মিটার পর্যন্ত খনন সম্পন্ন হয়েছে। এই কূপটিতে আনুমানিক দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত থাকার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। চলতি বছরের মধ্যেই এর খনন কাজ শেষ করে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি তিতাস গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে এবং ১৯৬৮ সাল থেকে এখানে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। এটি দেশের বৃহত্তম ও প্রাচীনতম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে এই ক্ষেত্রের সচল ২৩টি কূপ থেকে দৈনিক গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। এর আগে তিতাস-১ কূপটি সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৫০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছিল, যা এতদিন ছিল দেশের সবচেয়ে গভীর কূপ।
তবে সময়ের বিবর্তনে পুরোনো কূপগুলোতে গ্যাসের মজুত ও চাপ হ্রাস পাওয়ায় উৎপাদনও কমছে। এই ঘাটতি পূরণে বিজিএফসিএল নতুন এই তিন কূপের খনন প্রকল্প শুরু করে। ২৯ ও ৩১ নম্বর কূপের কাজ শেষ হওয়ার পরপরই ৩০ নম্বর কূপের খনন শুরু হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই তিনটি কূপের খনন কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করছে কর্তৃপক্ষ।
গভীর অনুসন্ধান কূপ প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব জানান, ২৯ নম্বর কূপটির খনন বর্তমানে ২ হাজার ৮৬০ মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং কারিগরি জটিলতা না থাকলে আগামী দুই মাসের মধ্যে এর কাজ শেষ হবে। এরপর একই রিগ ব্যবহার করে ৩০ নম্বর কূপের খনন শুরু হবে, আর ৩১ নম্বর কূপের কাজ শেষ হতে আরও তিন মাস সময় লাগবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে তিতাসে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭০০ মিটার পর্যন্ত খনন করা হলেও বর্তমান জ্বালানিসংকটের প্রেক্ষাপটে গভীরতম স্তরের রহস্য উন্মোচনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামানিক জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে নতুন তিন কূপের কাজ শেষ করে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন অন্তত ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। চাহিদার তুলনায় এই পরিমাণ বিশাল না হলেও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর সমপরিমাণ গ্যাস আমদানীকৃত এলএনজি থেকে সাশ্রয় করা যাবে। পাশাপাশি, তিতাসের বাইরেও বিজিএফসিএলের অন্যান্য গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে।
মনোয়ারুল হক/
