আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সংবর্ধনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৭ সেপ্টেম্বর): গত আগস্টে আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য অর্জনকারী বাংলাদেশের কৃতী হাফেজদের আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিজয়ী তরুণ হাফেজদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যেকোনো সন্তান নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার বলে যে অর্জনই বয়ে আনুক না কেন, রাষ্ট্র সবসময় সেই সাফল্যের যথোচিত স্বীকৃতি প্রদানে সচেষ্ট থাকবে।

সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, “আপনারা যে সম্মান ও পুরস্কার অর্জন করেছেন, তা কেবল আপনাদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং এটি সমগ্র বাংলাদেশের মুসলমানদের গৌরব।”

দীর্ঘদিন পর হাফেজদের এ ধরনের রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও উৎসাহ দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে তার মূল্যায়ন করা বর্তমান সরকারের অন্যতম একটি নীতি। মেধাবীদের সঠিক উৎসাহ ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করা গেলে তার সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক সুফল পুরো দেশ ও জাতি লাভ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সরকার গঠনের পর থেকে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে মেধাবী ও দক্ষ ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আজকের এই বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিজয়ী মাদ্রাসার শিক্ষকগণ তাদের বিভিন্ন অসুবিধা ও চাহিদার কথা প্রধানমন্ত্রীর নিকট তুলে ধরেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। এর কোনো বাস্তবসম্মত সমাধান আমাদের হাতে আছে কি না এবং থাকলে তা কীভাবে সম্ভব, আমরা ইনশাআল্লাহ তা বিবেচনা করব। সরকারের সাধ্যমতো আপনাদের পাশে থাকার শতভাগ চেষ্টা থাকবে।”

পাশাপাশি, আগামী দিনগুলোতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “ভবিষ্যতেও আমাদের ছেলেমেয়েরা এমন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজেদের, দেশের ও দেশের মানুষের জন্য মর্যাদা এবং গৌরব বয়ে আনবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “আমাদের কর্মপদ্ধতি ভিন্ন হলেও মূল লক্ষ্য একটাই—দেশে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, যাতে সকলে মিলে শান্তিতে বসবাস করতে পারি এবং মানুষ যেন মানুষের মতো মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারে।” এ সময় সরকারের কার্যক্রম সফল করতে তিনি সকলের আন্তরিক দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীদের হাতে উপহার হিসেবে বই তুলে দেন। এর আগে, প্রতিযোগিতায় যে নির্দিষ্ট সূরা তিলাওয়াত করে তারা বিজয়ী হয়েছিলেন, সেই সূরার অংশবিশেষ হাফেজদের নিজ কণ্ঠে মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের পবিত্র মাটিতে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে বিশ্বসেরা হয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এছাড়া ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী। পাশাপাশি নারী বিভাগে ১৫ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান এবং ৩০ পারা বিভাগে হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ উভয়েই তৃতীয় স্থান অর্জন করে দেশের জন্য বিরল সম্মান বয়ে আনেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। এছাড়া পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের সম্মানিত উস্তাদ কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর, সাজেদা খাতুন এবং মাওলানা রফিকুল ইসলামও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ