সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধন করল নির্বাচন কমিশন
নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৭ সেপ্টেম্বর): জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র, হলফনামা এবং প্রতীক সংক্রান্ত নিয়মে বেশকিছু পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পূর্বে যেসব বিষয় কেবল পরিপত্রের মাধ্যমে পরিচালিত হতো, এবার তা আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় যুক্ত করা হয়েছে। মূলত প্রার্থীদের তথ্য প্রদান প্রক্রিয়া আরও সহজ করতেই এই সংশোধনী এনেছে কমিশন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইসি সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সংশোধিত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী ২০০৮ সালের এই বিধিমালাটি সর্বশেষ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সংশোধন করা হয়েছিল
হলফনামা ও মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় যেসব পরিবর্তন এসেছে:
হিসাব নম্বরের পরিধি বৃদ্ধি: এখন থেকে মনোনয়নপত্রে (ফরম-১) কেবল প্রার্থীর নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরই নয়, বরং নির্বাচনী এজেন্টের অ্যাকাউন্ট নম্বরও ব্যবহার করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
জামিনের কাগজপত্র ঐচ্ছিক: ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত কোনো প্রার্থী জামিনে থাকলে পূর্বে হলফনামার সঙ্গে আদালতের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। নতুন সংশোধনীতে এটি ‘ঐচ্ছিক’ করা হয়েছে, অর্থাৎ জামিনের কোনো কপি এখন আর বাধ্যতামূলক নয়।
অভিযুক্তের সংজ্ঞা স্পষ্টকরণ: ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত বলতে ঠিক কোন অবস্থাকে বোঝাবে, তা স্পষ্ট করা হয়েছে। আদালত কর্তৃক যাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়েছে, কেবল তাঁদেরই অভিযুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।
কর তথ্য ও ব্যয় নির্বাহ: প্রার্থীর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং অন্যান্য নির্ভরশীলদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার তথ্য দেওয়ার নিয়মটিও এখন থেকে ঐচ্ছিক করা হয়েছে। পাশাপাশি, ভোটের খরচ পরিচালনার জন্য নির্বাচনী এজেন্টের অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়ার বিধানও ঐচ্ছিক রাখা হয়েছে।
ইসির জনসংযোগ পরিচালক আব্দুল মমিন সরকার জানান, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সময় পরিপত্রের মাধ্যমে যেসব নির্দেশনা ও স্পষ্টিকরণ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোকে পাকাপোক্ত করতেই বিধিমালায় এই হালনাগাদ করা হয়েছে। সার্বিকভাবে প্রার্থীরা যাতে সহজে এবং ঝামেলামুক্তভাবে তথ্য প্রদান করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই এই সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য।
প্রতীক ও আসন সংক্রান্ত অন্যান্য আপডেট
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এর আগে আরপিও সংশোধন করেছিল কমিশন। এই নির্বাচনে জামায়াতের দলীয় প্রতীকসহ নিবন্ধন পুনর্বহাল, নতুন দল এনসিপির নিবন্ধন এবং আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইসির সংরক্ষিত প্রতীক তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেই সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে ‘না’ ভোট। সব মিলিয়ে প্রতীক তালিকায় এখন মোট প্রতীক সংখ্যা দাঁড়াল ১২০টিতে।
এদিকে গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার দিন বিধিমালায় সংশোধন এনে গেজেট প্রকাশের পর বিএনপির মতো রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন অংশীজনের দাবির প্রেক্ষিতে কমিশন কিছু বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়। ভোটের পর ক্ষমতাসীন দল কর্তৃক বেশ কিছু উপজেলা গঠনসহ প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস করায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনসহ মোট ১১টি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে নতুন গেজেট প্রকাশ করা হয়। মূলত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলাকালীন গৃহীত এসব পদক্ষেপই সর্বশেষ সংশোধনের মাধ্যমে বিধিমালাভুক্ত করা হলো।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রার্থীরা আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। নতুন এই সংশোধিত বিধিমালার ফলে প্রার্থীরা আরও সহজে মনোনয়নপত্র ও হলফনামা পূরণ করার সুযোগ পাবেন। এছাড়া প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের করণিক ত্রুটি এড়াতে এবং মার্কার ক্রমবিন্যাসেও সামান্য কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, তবে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পূর্বের প্রতীক তালিকা বহাল রাখা হয়েছে।
মনোয়ারুল হক/
