বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আন্তর্জাতিক কার্বন ক্রেডিট পাবে বাংলাদেশ
নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১০ সেপ্টেম্বর): টেকসই জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে দেশে। ঢাকার আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগান্তকারী উদ্যোগের হাত ধরে আন্তর্জাতিক কার্বন বাজার থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা পেতে চলেছে বাংলাদেশ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের বর্জ্য সংকটের স্থায়ী সুরাহা হবে, অন্যদিকে বিশ্বমঞ্চে গ্রিনহাউস গ্যাস হ্রাসের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি অর্জিত হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে বাস্তবায়নাধীন এই মেগা প্রকল্পে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হওয়ার কথা রয়েছে। চীনা প্রতিষ্ঠান সিএমইসি গ্রুপের উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে সরাসরি প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ আসছে। এর সঙ্গে অর্থায়নে যুক্ত রয়েছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট Bank, ডিবিএস, এনডিবি এবং ব্যাংক অব চায়না-সহ বেশ কয়েকটি নামী আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, ২০২৮ সালের মধ্যে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের ব্যবস্থাপনায় সিটি কর্পোরেশনের বার্ষিক খরচ হয় প্রায় ৫২০ কোটি টাকা, যা এই প্রকল্পের সুবাদে সাশ্রয় হবে। এছাড়া পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৯০ কোটি টাকার সমপরিমাণ কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সুযোগ পাবে। স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সমন্বয়ে প্রণীত এই উদ্যোগে বিদ্যুতের চূড়ান্ত উৎপাদন খরচ ১০ টাকার নিচে নেমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীন সরকারের উদ্ভাবিত ইনসিনারেটর গ্রেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে উচ্চ আর্দ্রতাসম্পন্ন দেশীয় বর্জ্য সরাসরি উচ্চ তাপমাত্রায় পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। পাশাপাশি পচনশীল বর্জ্য থেকে মিথেন গ্যাস তৈরি এবং ক্ষতিকারক গ্যাস বায়ুমণ্ডলে ছড়াতে বাধা দেওয়ার ফলে কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ল্যান্ডফিলে জৈব বর্জ্যের অনিয়ন্ত্রিত পচন রোধ করে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে পরিবেশ দূষণ বহুলাংশে কমে আসবে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, শিল্পখাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং কার্বন শোষণ বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। পরিবেশবিদ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত মনে করেন, সরকারের এই দূরদর্শী ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এক সুশৃঙ্খল ও আধুনিক মডেলের সূচনা হবে।
সূত্র: বাসস
মনোয়ারুল হক/
