সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়: ট্রাম্পের ক্ষমতা বৃদ্ধি, ফেডারেল রিজার্ভে ব্যতিক্রম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (৩০ জুন) : যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক রায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শীর্ষ আদালতের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ফেডারেল রিজার্ভ বাদে অন্য যেকোনো স্বাধীন সরকারি সংস্থার প্রধানকে প্রেসিডেন্ট এখন থেকে যেকোনো মুহূর্তে পদচ্যুত করতে পারবেন। আদালতের এই যুগান্তকারী রায়ের ফলে দীর্ঘ ৯১ বছরের পুরোনো এক আইনি ঐতিহ্য ও নজিরের অবসান ঘটল, যা এতদিন এই স্বাধীন সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষা দিয়ে আসছিল।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমস্ত স্বাধীন সংস্থার ওপর নিজের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেও, সুপ্রিম কোর্ট ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) ক্ষেত্রে একটি কঠোর সীমারেখা টেনে দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণের যে আবেদন জানিয়েছিল, তা ৫-৪ ভোটের ব্যবধানে খারিজ করে দেন আদালত। জো বাইডেন কর্তৃক মনোনীত এবং প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী ফেড গভর্নর লিসা কুকের বিরুদ্ধে বন্ধকী জালিয়াতির অভিযোগ এনে তাকে বরখাস্ত করতে চেয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে শুরু থেকেই এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন কুক। ফেড গভর্নরকে রক্ষায় প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে উল্লেখ করেন, কোনো কারণ বা আইনি তদারকি ছাড়া ফেড সদস্যদের এভাবে অপসারণের অনুমতি দিলে এই পদের মর্যাদা স্রেফ খেয়ালখুশি মতো চাকরিতে রূপ নেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, লিসা কুককে সরানোর মূল লক্ষ্য ছিল মার্কিন সুদের হার নীতির ওপর হোয়াইট হাউজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। ট্রাম্প সরকারের ঋণের খরচ কমাতে এবং সাধারণ মানুষের জন্য ঋণ সস্তা করতে দ্রুত সুদের হার হ্রাসের পক্ষে ছিলেন, কিন্তু মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখায় ট্রাম্প তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হন। ফেডারেল রিজার্ভ এই যাত্রায় রক্ষা পেলেও, অন্যান্য স্বাধীন সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা অনুমোদন করেছেন আদালতের ৬ জন রক্ষণশীল বিচারপতি। এর মাধ্যমে ১৯৩৫ সালের বিখ্যাত ‘হামফ্রিস এক্সিকিউটর’ মামলার আইনি সুরক্ষা বাতিল হয়ে গেল, যা এতদিন স্বাধীন সংস্থার প্রধানদের বিনা কারণে বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে বাধা দিত। সংখ্যাগরিষ্ঠের পক্ষে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস যুক্তি দেন যে, এই আইনি সুরক্ষা সংবিধানের ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির বিরোধী। এর ফলে ট্রাম্প পূর্বে ফেডারেল ট্রেড কমিশনের রেবেকা স্লটারসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার ওপর যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন, তা আইনি বৈধতা পেল।
এই ঐতিহাসিক রায়ের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি একে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেন। অন্যদিকে, তীব্র ক্ষোভ ও ভিন্নমত প্রকাশ করে আদালতের উদারপন্থি বিচারপতি সোনিয়া সোতোমেওর সতর্ক করেছেন যে, এই রায়ের ফলে মার্কিন প্রশাসনে অস্থিরতা ও স্বৈরাচারী নিপীড়নের পথ সুগম হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রেসিডেন্ট এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন, তবে এই ক্ষমতা তাকে দেশের জনগণ বা সংবিধান দেয়নি, দিয়েছে এই আদালতের ছয়জন রক্ষণশীল বিচারপতি। সূত্র: এনডিটিভি
মনোয়ারুল হক/
