সিন্ধু নদের পানি নিয়ে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা তুঙ্গে: যুদ্ধের প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি ইসলামাবাদের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (৩০ জুন) : ষাটের দশকের ঐতিহাসিক ‘সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি’ নিয়ে চিরবৈরী দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার কূটনৈতিক বিরোধ এবার চরম উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। নিজেদের প্রাপ্য পানির অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে দিল্লির বিরুদ্ধে রণক্ষেত্রের পথে হাঁটারও প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামাবাদ।
সম্প্রতি এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুসাদ্দিক মালিক ভারতের বিরুদ্ধে পানির প্রবাহ আটকে দেওয়ার সরাসরি অভিযোগ তোলেন। নয়াদিল্লিকে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তানের ন্যায্য অধিকার যারা কেড়ে নিতে চাইবে, তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। একই সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অতীতের এক মন্তব্যকে ইঙ্গিত করে তিনি দাবি করেন, মোদি আগেই পাকিস্তানকে পানি থেকে বঞ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে ১৯৬০ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী ভারত একতরফাভাবে পানির প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
ভারত ও পাকিস্তানের এই পানিকেন্দ্রিক বিরোধের সূত্রপাত মূলত গত বছর (২০২৫ সালে) পহেলগাঁওয়ে এক হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই ঘটনার পর ভারত সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন যে, ‘রক্ত ও পানি এক সাথে প্রবাহিত হতে পারে না।’ এরপর থেকেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই চুক্তি পুনর্বহালের জন্য জোর লবিং চালিয়ে আসছে পাকিস্তান।
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন সম্প্রতি ভারতের জলশক্তিমন্ত্রী সি আর পাতিল ইঙ্গিত দেন যে, ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে প্রবাহিত সিন্ধু নদের পানি পুরোপুরি বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে দিল্লি। ভারতের এমন আগ্রাসী অবস্থানের জবাবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পানি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, পানিসংকটের কারণে যদি পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে, তবে ভারতের সাথে সামরিক সংঘাত বা যুদ্ধের পথ বেছে নিতেও দ্বিধা করবে না ইসলামাবাদ।
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তি মোতাবেক শতদ্রু, বিপাশা ও ইরাবতী নদীর পানি ব্যবহারের একচ্ছত্র অধিকার পায় ভারত; অন্যদিকে সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর পানির হিস্যা দেওয়া হয় পাকিস্তানকে। দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকা এই চুক্তিটি এখন দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের নতুন ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সূত্র: আনন্দবাজার
মনোয়ারুল হক/
