নকআউট ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও জাপানের বুক ভেঙে শেষ ষোলোতে ব্রাজিল

ক্রীড়া ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৩০ জুন) : নাটকীয়তায় ঠাসা এক ম্যাচে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও যেভাবে সেলেসাওরা ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাতে কোচ কার্লো আনচেলত্তির আত্মবিশ্বাস যেন আরও ডানা মেলেছে। ম্যাচ শেষে স্বভাবসুলভ শান্ত মেজাজে থাকা ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ড প্রতিপক্ষ দলগুলোকে এক প্রকার প্রচ্ছন্ন সতর্কবার্তাই দিয়ে রাখলেন। তার মতে, ব্রাজিল দল দিন দিন আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে।

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে বদলি হিসেবে নামা গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির একটি বুলেট গতির শট পরাস্ত করে জাপানি গোলরক্ষক জিওন সুজুকিকে। বল জালে জড়া হতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে ব্রাজিল শিবির, আর অন্যপ্রান্তে স্তব্ধ হয়ে যায় জাপানি গ্যালারি। এই জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের রাউন্ড অব ৩২-এর বৈতরণী পার হলো পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি জানান, প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকলেও তার মনে জয়ের ব্যাপারে কোনো সংশয় ছিল না। বিরতির সময় তিনি শিষ্যদের শান্ত থেকে নিজেদের রণকৌশল ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কারণ তিনি জানতেন গোল আসবেই।

অথচ প্রথমার্ধের চিত্রটা ব্রাজিলের জন্য ছিল চরম অস্বস্তির। কাইশু সানোর গোলে জাপান লিড নেওয়ার পর ব্রাজিলের খেলায় ছন্নছাড়া ভাব দেখা যায়। একপর্যায়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ থেকে সেলেসাওদের বিদায়ের শঙ্কাও জেগেছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বের হয় ব্রাজিল। প্রথমে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোর গোলে সমতায় ফেরে দল, আর শেষ মুহূর্তে মার্তিনেল্লির ওই জাদুকরী গোল। ২০০২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর, এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার কীর্তি গড়ল ব্রাজিল।

ম্যাচের কৌশল পরিবর্তন নিয়ে আনচেলত্তি ব্যাখ্যা করেন, শুরুতে মাঝমাঠ দিয়ে আক্রমণের চেষ্টা সফল না হওয়ায় বিরতির পর তারা উইং ব্যবহার করে বক্সে ক্রস বাড়ানোর কৌশল নেন, যা দারুণ কাজে দেয়। একই সাথে তিনি স্কোয়াডের গভীরতা নিয়ে একটি চমকপ্রদ তথ্য শেয়ার করেন। আনচেলত্তি জানান, তিনি নেইমারকে প্রস্তুত রেখেছিলেন—একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমতা না এলে তাকে মাঠে নামানো হতো। তবে ৩৪ বছর বয়সী এই পোস্টার বয়ের এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা এখন পর্যন্ত স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি হিসেবে খেলা মাত্র ১৫ মিনিটেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

প্রথমার্ধে জাপানের দাপট স্বীকার করলেও, আনচেলত্তির মতে এটিই ছিল চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে গোছানো ও পরিপূর্ণ ম্যাচ। মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করা ম্যাচের মতো এবার তারা খেই হারিয়ে ফেলেননি। তার মতে, ফুটবলে চড়াই-উতরাই বা কষ্ট সহ্য করাটা খেলারই অংশ।

অন্য দিকে, হৃদয়ভাঙা হারের পরও মাথা উঁচু করে মাঠ ছেড়েছেন জাপানের হেড কোচ হাজিমে মোরিয়াসু। আগামী বছরের এশিয়ান কাপ পর্যন্ত ডাগআউটে থাকার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ব্রাজিলের মতো পরাশক্তিদের সাথে তাদের ব্যবধান এখন অনেকটাই কমে এসেছে। ম্যাচে এমন কিছু সময় ছিল যখন জাপানের নিয়ন্ত্রণ ছিল একচ্ছত্র। তবে বিশ্বমঞ্চে এই ধরনের শীর্ষ দলগুলোকে হারাতে হলে তাদের রক্ষণভাগ ও আক্রমণে আরও উন্নতির প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন এই জাপানি মাস্টারমাইন্ড।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ