হাবিবের প্রতি মিরপুর পুলিশের আনুগত্য, শাশুড়ি এখনো ক্ষমতাধর
বিশেষ প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২৮ জুন) : মানবতা বিরোধী অপরাধে ফাঁসির দন্ডিত আসামি, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান পলাতক থাকলেও তার শাশুড়ী এখনো ক্ষমতাধর। জামাইয়ের পরিচয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অপরাধ ও অনৈতিক কর্মে নিয়োজিত করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। পুলিশের কর্তা ব্যক্তিরাও পোষণ করছেন আনুগত্য।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পতিত সরকারের সময়ের ক্ষমতাধর, গণঅভ্যুত্থানের পর পালিয়ে যাওয়া বরখাস্ত ডিআইজি হাবিবুর রহমান ডিএমপির কমিশনার থাকাকালীন রাজধানীর মিরপুরের ৩৭২/৪/১, শেওড়াপাড়ার রাজা মিয়ার ৬ কাঠা জমি তার শাশুড়ি শামসুন্নাহার মেরীর পক্ষে দখল করে দেন। শুধু তাই নয়, জমির প্রকৃত মালিককে ভয়ভিতি দেখিয়ে স্বপরিবারে ঢাকা ছাড়া করেন। রাজা মিয়ার পক্ষে পাওয়ার অব এ্যাটর্নি পাওয়া মিরপুরের দক্ষিণ মনিপুরে বসবাসকারী ইব্রাহিমকে গুম করার চেষ্টা করেন মিরপুর থানা পুলিশকে দিয়ে। এসব কারণে রাজা মিয়া ও ইব্রাহিম তাদের আতংকিত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা থেকে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন।
জানা যায়, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর রাজা মিয়া ও ইসমাইল তাদের শেওড়াপাড়ার এই জমি উদ্ধার করেন। তবে উদ্ধারের পর থেকেই ডিএমপির সাবেক কমিশনার পলাতক হাবিবুর রহমানের শাশুড়ী সামসুর নাহার মেরী ও শাশুড়ির বোন সামসুন্নাহার বেবী হুমকি ও ভয়ভিতি দেখিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ গতকাল শনিবার ভোরে মিরপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় দলবল নিয়ে হাবিবুর রহমানের শাশুড়ী সামসুর নাহার মেরী শেওড়াপাড়ার জমিটি দখল করে নেয়। এতে বাধা দিলে জমির প্রকৃত মালিক রাজা মিয়ার পাওয়ার অব এ্যাটর্নি দেয়া ইব্রাহিমকে ঘটনাস্থল থেকে ধরে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় রাজা মিয়া ও ইব্রাহিম জমির দলিল এবং মামলা বিচারাধীনের কাগজপত্র পুলিশকে দেখালেও কোন লাভ হয়নি। শনিবার সারারাত ইব্রাহিমকে থানায় আটকে রেখে রোববার দুপুরে ডিসির কার্যালয়ে নিয়ে এসে ‘জমি দখলের চেষ্টার’ অভিযোগে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাকে জামিনা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অভিযোগ রয়েছে, এই জমি দখল এবং নিরিহ রাজা মিয়া ও ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার পেছনে ছিলেন পুলিশের সেই ক্ষমতাধর, মানবতা বিরোধী অপরাধে ফাঁসির দন্ডিত হাবিবুর রহমান। পালিয়ে থেকে পর্দার আড়াল থেকে সব করেছেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে মিরপুর বিভাগের ডিসি মোস্তাক সরকারের মোবাইলে রোববার বিকেলে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি ধরেননি। আর ওসি হাফিজুর রহমান জানান, সামসুর নাহার মেরী ও তার বোন সামসুন্নাহার বেবী জমির দখলেই ছিলেন। দখল করতে গিয়েছিলেন ইব্রাহিম। তাই অবৈধ দখলের চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে। পুলিশের পক্ষপাতিত্বের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। সামসুর নাহার মেরী ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানের কী-হন তা জানেন না বলেও জানান।
মনোয়ারুল হক/
