কূটনৈতিক নতুন দিগন্তে বাংলাদেশ: মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বিকেলে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (২১ জুন) : অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আজ বিকেলে ঢাকা ত্যাগ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রথমে কুয়ালালামপুর যাবেন তিনি। সেখান থেকে সফর শেষে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর আমন্ত্রণে সরাসরি বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট আজ বিকেলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই মেগা সফরকে কেন্দ্র করে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, এই সফরটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক খাতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে চীন সফরকালে দুই দেশের মধ্যে উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করতে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রোটোকল।
এছাড়া, দেশের মানুষের বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিশেষ আলোচনার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও যৌক্তিকতা বিবেচনায় এবার প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলটি বেশ ছোট রাখা হয়েছে, যাতে সদস্য সংখ্যা মাত্র ২৭ থেকে ২৮ জন।
সফরের লিয়াজোঁ সূচি অনুযায়ী, চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠেয় বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে (সামার দাভোস ফোরাম) যোগ দেবেন। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই বৈশ্বিক মঞ্চে ৯০টিরও বেশি দেশের ১ হাজার ৭০০ প্রতিনিধি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতা ও প্রযুক্তিগত প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করবেন। এরপর ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এই দ্বৈত সফরকে বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি করা। সফরের মালয়েশিয়া পর্বে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বন্ধ শ্রমবাজারের উন্নয়ন এবং নতুন বিনিয়োগের ওপর জোর দেওয়া হবে। অন্যদিকে, চীন সফরে দেশের অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের বড় অংশীদারিত্বের বিষয়টি প্রধান্য পাবে।
সকল রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করার কথা রয়েছে।
মনোয়ারুল হক/
