৬ মাসের মধ্যে চালু হচ্ছে ৫টি আধুনিক বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১৯ জুন) : দেশের শিশু স্বাস্থ্যসেবায় এক বড় মাইলফলক অর্জিত হতে যাচ্ছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী এবং কুমিল্লায় ২০০ শয্যাবিশিষ্ট ৫টি অত্যাধুনিক বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের হাসপাতাল দুটি আগামী আগস্টের শুরুতেই সেবা দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের উন্নত চিকিৎসার কথা মাথায় রেখে প্রতিটি হাসপাতালে থাকছে বিশাল পরিসরের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সুবিধা, সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং এবং ভবিষ্যতে শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর সুব্যবস্থা। হাসপাতালগুলোর প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে।
হাসপাতালগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালনার জন্য প্রতিটিতে ১ হাজার ৪৭৫ জন দক্ষ জনবল প্রয়োজন হবে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সম্প্রতি খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লা পরিদর্শনে গিয়ে কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন। তিনি জানান- আগামী ১ আগস্ট প্রথম ধাপে বরিশাল শিশু হাসপাতালটি চালু হতে যাচ্ছে। নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান, এক্স-রে, মাল্টি প্যারামিটার কার্ডিয়াক মনিটর ও ফটোথেরাপি মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি জুলাইয়ের মধ্যেই হাসপাতালে পৌঁছে যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, আগস্টে শুরুর দিকেই প্রথম ধাপে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগের কার্যক্রম চালু করা হবে।
গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে এক জরুরি বৈঠকে দেশের বিভিন্ন বিভাগে অব্যবহৃত পড়ে থাকা শিশু হাসপাতালগুলো দ্রুত সচল করার কড়া নির্দেশ দেন। এরপরই মূলত স্বাস্থ্য প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।
গত ২০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনার নির্মাণাধীন হাসপাতালটি পরিদর্শন করে আগামী ৬ মাসের মধ্যে তা চালুর আশা ব্যক্ত করেন। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানান, গণপূর্ত বিভাগ ও সিভিল সার্জনকে সাথে নিয়ে তারা নিয়মিত তদারকি করছেন।
কুমিল্লার সদর দক্ষিণের বেলতলী এলাকায় নির্মিত হাসপাতালটি আগামী ৬ মাসের মধ্যে চালু হবে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান ইতোমধ্যে জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন।
অবকাঠামো নির্মাণের পর দীর্ঘ ৬ বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকার পর অবশেষে চালু হতে যাচ্ছে রংপুর শিশু হাসপাতাল। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শুধু এই ৫টিই নয়, দেশজুড়ে স্বাস্থ্য খাতের এমন সব অব্যবহৃত স্থাপনা সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
আগামী ৩ মাসের মধ্যে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর জোর প্রস্তুতি চলছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন। সচিব জানান, প্রথম ধাপে এখানে আউটডোর বা বহির্বিভাগ সেবা চালু হবে এবং পরবর্তী অর্থবছর থেকে অন্যান্য সেবা ধাপে ধাপে শুরু হবে।
জাতীয় এই উদ্যোগের ফলে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের শিশুদের জন্য বিশেষায়িত ও মানসম্মত চিকিৎসা প্রাপ্তি আরও সহজলভ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মনোয়ারুল হক/
