এমবাপ্পের জোড়া গোলে সেনেগাল বধ, ফরাসীদের রাজকীয় সূচনা

ক্রীড়া ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৭ জুন) : কিলিয়ান এমবাপ্পের জাদুকরী জোড়া গোলে সেনেগালকে ৩-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলো অন্যতম ফেবারিট ফ্রান্স। এই জয়ের মাধ্যমে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পকেটে পুরে গ্রুপ ‘আই’-তে নিজেদের আধিপত্যের জানান দিল দিদিয়ের দেশ্যমের শিষ্যরা। ম্যাচের বাকি গোলটি এসেছে তরুণ তুর্কি ব্র্যাডলি বারকোলার পা থেকে। আর এই জোড়া গোলের পর বিশ্বকাপে রিয়াল মাদ্রিদ সুপারস্টার এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো ১৪-তে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ফরাসী শিবিরে ছিল ছন্দের অভাব। সেনেগালের জমাট রক্ষণ আর আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে প্রথম ৪৫ মিনিট গোলশূন্য থাকতে হয় ব্লুজদের। তবে বিরতির পর খোলস ছেড়ে বের হয় ফ্রান্স। ৬৬ মিনিটে দুর্দান্ত এক পাসে ডেডলক ভাঙেন মাইকেল ওলিসে, যার সুবিধা নিয়ে ফ্রান্সকে ১-০ তে এগিয়ে নেন এমবাপ্পে।

এরপর ম্যাচের শেষভাগে বেঞ্চ থেকে উঠে এসে ব্যবধান ২-০ করেন পিএসজি তারকা বারকোলা। যদিও অতিরিক্ত সময়ে (স্টপেজ টাইম) বারকোলার ক্লাব সতীর্থ ইব্রাহিম এমবায়ে সেনেগালের হয়ে একটি সান্ত্বনার গোল শোধ করেন (২-১)। তবে নাটকীয়তার তখনও বাকি ছিল। ইনজুরি টাইমে দূরপাল্লার এক অবিশ্বাস্য শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করে ফরাসীদের জয় নিশ্চিত করেন এমবাপ্পে।

জাতীয় দলের জার্সিতে এটি এমবাপ্পের ৫৮তম গোল। এই জোড়া গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারকে স্পর্শ করলেন তিনি। এখন তার সামনে কেবল লিওনেল মেসি (১৬), মিরোস্লাভ ক্লোসা (১৬) এবং ব্রাজিলের রোনাল্ডো (১৫)।

নিজের ৯৯তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা এমবাপ্পে ম্যাচ শেষে নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে বলেন, আমি মাঠে নামি দেশের ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখতে। আমাদের লক্ষ্য ফাইনাল খেলা এবং ট্রফি জয়। প্রত্যাশার চাপ সবসময়ই বেশি থাকে, তবে আমাদের স্বাভাবিক খেলা ধরে রেখেই সামনে এগোতে হবে।

কোচ দিদিয়ের দেশ্যমও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলেন, শুরুটা কিছুটা নড়বড়ে ছিল, যা আমাদের কিছুটা চিন্তায় ফেলেছিল। তবে শক্তিশালী এক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ছেলেরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা সত্যিই দারুণ।  মূলত দ্বিতীয়ার্ধে ওলিসেকে রাইট-উইংয়ে খেলানোর মাস্টারস্ট্রোকটিই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়।

২০০২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এই সেনেগালের কাছেই ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছিল তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। সেই অতীত ইতিহাস এবং সাদিও মানের নেতৃত্বাধীন সেনেগালের বর্তমান ফর্ম নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত ছিলেন দেশ্যম। প্রথমার্ধে সেনেগালই আধিপত্য দেখিয়েছে; ২৫ মিনিটে নিকোলাস জ্যাকসনের শট পোস্টে না লাগলে কিংবা ইনজুরি টাইমে ইসমাইলা সার সুযোগ মিস না করলে ম্যাচের গল্প অন্য হতে পারত। তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছেড়েছে ফরাসীরাই।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ