চিন্তাশীল বাজেট, কিন্তু আর্থিক ভিত্তি নড়বড়ে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১২ জুন) : ঘোষিত নতুন জাতীয় বাজেটকে নীতিগত দিক থেকে ‘চিন্তাশীল’ আখ্যা দিলেও এর প্রয়োগিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, বাজেটের তাত্ত্বিক ও নীতিগত কাঠামো যথেষ্ঠ শক্তিশালী হলেও, তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ভিত্তি অনেকটাই দুর্বল।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর, সংসদ ভবনের জেনারেল এম এ জি ওসমানী গেটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বাজেটের ভেতরের দূরদর্শী ভাবনার প্রশংসা করে তিনটি মূল দিক চিহ্নিত করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনীতিতে সাম্য ফেরাতে এক বছরের স্থিতিশীলতা, পরবর্তী তিন বছরের পুনরুদ্ধার এবং এর পরের এক বছর পুনর্গঠনের একটি ধারাবাহিক রূপরেখা এই বাজেটে রয়েছে। বাজারকে চাঙ্গা করতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ শিথিল ও উদারীকরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও যুবসমাজকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের মাধ্যমে একটি মানবিক সমাজ গঠনের চেষ্টা দৃশ্যমান। প্রযুক্তির সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে ডিজিটালাইজেশনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নীতিগতভাবে বাজেটটি সূক্ষ্ম ও বিচক্ষণতার সাথে তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন—”কাগজে-কলমে এই নীতিকাঠামো নিঃসন্দেহে চমৎকার। কিন্তু এত সুন্দর একটি চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, তহবিলে তার ঘাটতি রয়েছে। ফলে এর আর্থিক ভিত্তিটি দুর্বল থেকে গেছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, দিনশেষে যেকোনো বাজেটের সফলতা নির্ভর করে তা কতটুকু বাস্তবায়িত হলো তার ওপর। সংস্কারের পথ ধরে সরকার এই সম্ভাবনাময় কিন্তু বাস্তবায়নে কঠিন বাজেটটিকে কীভাবে টেনে নিয়ে যায়, আগামী দিনে সেটাই দেখার বিষয়।
মনোয়ারুল হক/
