শূন্য থেকে দেশ পুনর্গঠনের যাত্রা শুরু হয়েছে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঠাকুরগাঁও), এবিসিনিউজবিডি, (২৯ মে) : ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে গণতন্ত্রের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ ও শূন্যতা থেকেই আমাদের নতুন করে পথ চলা শুরু করতে হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়িস্থ মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “আওয়ামী লীগ ও তাদের মন্ত্রীরা দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ লুটে নিয়েছে। ব্যাংকগুলোকে ফাঁকা করে প্রায় ৮০ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এমন একটি বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “বিগত তিন মাসে আমরা নানামুখী উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আগামী দিনগুলোতে সকলের সহযোগিতা পেলে দেশের এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।” দেশের এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সাংবাদিকতাকে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ পেশা হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট কিংবা ফিলিস্তিন যুদ্ধ—সবখানেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিকদের কাজ করতে হচ্ছে। বাংলাদেশেও বিগত সরকারের আমলে সত্য প্রকাশের জেরে প্রায় পাঁচ শতাধিক সাংবাদিককে প্রাণ দিতে হয়েছে এবং অসংখ্য সংবাদকর্মী নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। কোনো প্রতিবেদন তৈরির সময় যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। একপাক্ষিক সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থেকে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে হবে।
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তীব্র প্রভাবের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া যেমন শক্তিশালী, তেমনি এর অপব্যবহারও বাড়ছে। সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়া মুহূর্তের মধ্যে এখানে যেকোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের চরিত্রহনন করা সম্ভব হচ্ছে। এই ধরনের বিভ্রান্তিকর চর্চা রোধে সাংবাদিকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী এবং পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম শরীফসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
মনোয়ারুল হক/
