এমপিদের খেলাপি ঋণ ৩৩৩০ কোটি টাকা: অর্থমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৬ এপ্রিল) : জাতীয় সংসদে দেশের ব্যাংকিং খাত ও সংসদ সদস্যদের (এমপি) ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান সংসদ সদস্য এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আদালতের বিভিন্ন নির্দেশনার কারণে কিছু ঋণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা যায়নি। ফলে প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।
তিনি জানান, শুধু সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রেই নয়, দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতেও খেলাপি ঋণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।
সংসদে শীর্ষ ২০ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকাও উপস্থাপন করা হয়, যেখানে বড় বড় শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।
খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, যেসব ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণ ১০ শতাংশের বেশি, সেগুলোর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে সমস্যার কারণ চিহ্নিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে শীর্ষ খেলাপিদের তালিকা পর্যালোচনা, ঋণ পুনরুদ্ধারে গাইডলাইন প্রণয়ন এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থার মাধ্যমে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ নগদ আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক কোম্পানি আইনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ঋণ আদায় প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয়।
এদিকে একই অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী দেশের মাথাপিছু আয়ের তথ্যও প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার।
তিনি বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বাড়ানোর মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ আয় আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন না হলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
মনোয়ারুল হক/
