সাম্য ও দ্রোহের প্রতীক জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী
নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২২ মে) : জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আগামীকাল শনিবার ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালের নজরুল মঞ্চে আয়োজিত জাতীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন তিনি।
বাংলা সাহিত্যের আকাশে কাজী নজরুল ইসলাম এক অনন্য ও কালজয়ী প্রতিভার নাম। মানবসত্তার গভীরে প্রোথিত তাঁর যে প্রখর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনচেতা মনোভাব, তা তাঁকে সমসাময়িক অন্য সবার চেয়ে আলাদা করেছে। বাঙালি সমাজের যেকোনো অন্যায়, অবিচার ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তিনি সবসময়ই ছিলেন সোচ্চার। সমাজে যখনই ধর্মের নামে উগ্রতা কিংবা দাঙ্গার কালো ছায়া নেমে এসেছে, তখনই নজরুলের কলম গর্জে উঠেছে সেই অপশক্তির বিরুদ্ধে। তিনি আজীবন মানুষের মাঝে অসাম্প্রদায়িকতা ও সাম্যবাদের বাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন।
একাধারে প্রেম ও দ্রোহের এই কবি হৃদয়ের সবটুকু আবেগ দিয়ে ভালোবাসার জয়গান গেয়েছেন। তাঁর নান্দনিকতাবোধ ছিল অত্যন্ত রুচিশীল ও উচ্চপর্যায়ের। তবে কেবল শিল্পের সৌন্দর্যেই তিনি সীমাবদ্ধ ছিলেন না; বরং সমাজ ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনকে তিনি বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। তাঁর মূল স্বপ্ন ছিল একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ, যার হাতিয়ার ছিল বিপ্লব। তাঁকে আমরা ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে চিনলেও, তাঁর প্রকৃত পরিচয়—তিনি ছিলেন একজন খাঁটি বাঙালি, যিনি সমাজ পরিবর্তনের ওপর গভীর আস্থা রাখতেন।
নজরুলের এই আপসহীন যাত্রাপথ অবশ্য মসৃণ ছিল না। তৎকালীন সমাজে হিন্দু দেবদেবীর অনুষঙ্গ ব্যবহার করায় তাঁকে ‘কাফের’ উপাধিও পেতে হয়েছে, আবার কবিসুলভ নিজস্ব শব্দচয়নের কারণে উগ্রপন্থীদের ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু কোনো বাধাই নজরুলকে দমাতে পারেনি; তিনি আপন গতিতে সৃষ্টিশীল কাজ করে গেছেন। আর এই অকুতোভয় চেতনার কারণেই সমগ্র বাঙালি জাতি তাঁর কাছে চিরঋণী।
নজরুলের বিদ্রোহ কেবল ক্ষণিকের তরে জ্বলে ওঠা কোনো ধূমকেতু ছিল না; তা ছিল মেহনতি মানুষের ‘লাঙল’-এর মতো এক ধারাবাহিক ও সুদূরপ্রসারী সংগ্রাম। তাঁর এই ভাঙনের সুর কেবল ধ্বংসের জন্য ছিল না, বরং তা ছিল নতুন এক সুন্দর পৃথিবী গড়ার সৃষ্টিশীল প্রত্যয়।
মনোয়ারুল হক/
