ঈদের দিন অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে গেলে করণীয়
লাইফস্টাইল ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২১ মার্চ) : ঈদ আমাদের জীবনের অন্যতম আনন্দময় দিন। পরিবারের সঙ্গে একত্রে বসে খাওয়া, প্রিয় মিষ্টি, দাওয়াতের খাবার, ভাজাপোড়া – সব মিলিয়ে ঈদকে বিশেষ করে তোলে। তবে এই আনন্দের সঙ্গে অনেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা অনুভব করেন – অতিরিক্ত খাওয়া, যা হজমের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক, অস্বস্তি, এবং ক্লান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন রোজা রাখার পর, ঈদের সময় সুযোগ পেয়ে একবারে অনেক খাবার খেয়ে ফেলেন অনেকেই । আর যেহেতু দীর্ঘদিন রোজা রাখা হয়েছে, শরীর রোজাতেই অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার কারণে, এমন করে হঠাৎ বেশি খাবার খাওয়ার জন্য শরীর প্রস্তুত না থাকায়, শরীর ভারী অনুভব করতে পারে এবং অনেকেই ‘বাজে খাচ্ছি’ বলে নিজেকে দোষারোপ করেন।
কিন্তু আসলেই এটা কোনও অপরাধ নয়। আমাদের শরীর প্রাকৃতিকভাবে অতিরিক্ত খাওয়াকে সামলাতে পারে, যদি আমরা সচেতন পদক্ষেপ নিই। আসুন দেখি, ঈদের দিন অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে গেলে কি করা উচিত, কীভাবে দ্রুত হজম স্বাভাবিক করা যায় এবং কোন অভ্যাসগুলো আমাদের স্বস্তি দিতে পারে :-
১. হালকা চলাফেরা করুন :
খাবারের পর সরাসরি বসে থাকা বা ঘুমানো হজমের জন্য ক্ষতিকর। খাবারের পর ১০ – ২০ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করুন। এটি হজম প্রক্রিয়াকে সাহায্য করে, খাবার দ্রুত পাকস্থলীতে পৌঁছায় এবং গ্যাস বা অস্বস্তি কমায়। (এসময় জোরে দৌড় বা ভারী ব্যায়াম না করা ভালো।)
২. প্রচুর পানি পান করুন :
ঈদে মিষ্টি বা তেলের খাবার বেশি খাওয়া হলে শরীর dehydrated হতে পারে। পানি বা লেবুর জল হজমকে সহজ করে এবং বিষক্রিয়াকে কমায়। তবে একবারে অনেক পানি খাওয়া না করে ছোট ছোট চুমুক নিন।
৩. হজমে সাহায্যকারী খাবার খাওয়া :
* দই বা চাটনি: প্রোবায়োটিক দই হজমে সাহায্য করে।
* ফলমূল: আপেল, পেয়ারা বা তরমুজের মতো জলযুক্ত ফল খাবার হজম সহজ করে।
* হালকা সবজি: স্যুপ বা হালকা সবজি হজমের জন্য ভালো।
৪. পেটের অস্বস্তি কমানোর প্রাকৃতিক উপায় :
* জিরা বা ধনেপাতা চা: গ্যাস বা ফোলাভাব কমায়।
* আদা চা বা হালকা আদা পানি: হজমে সাহায্য করে এবং বমি ভাব কমায়।
৫. পরবর্তী খাবার হালকা রাখুন :
যদি রাতে অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে যায়, পরবর্তী দিন হালকা খাবার গ্রহণ করুন। খুব ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন। যেমন:
ওটস, দই, স্যুপ, হালকা সবজি, কম তেল, কম মিষ্টি
৬. নিজের প্রতি ধৈর্য ধরুন :
অতিরিক্ত খাওয়া হয়েছে মানে আপনাকে দোষী ভাবার কিছু নেই। শরীর ধৈর্য ধরে এই অতিরিক্ত খাবার হজম করবে। মানসিক চাপ কম রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। নিজের প্রতি সদয় হোন।
৭. সতর্ক থাকুন :
প্রচুর ভাজাপোড়া এবং চিনি খাওয়ার পরে যদি পেটে তীব্র ব্যথা, বমি, হঠাৎ মাথা ঘোরা বা চিনি-সংক্রান্ত সমস্যা হয়, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
যারা ডায়াবেটিস, সিভিয়ার গ্যাস্ট্রিক, হৃদরোগ, কিডনি বা অন্য কোনো সমস্যায় আছেন, তারা উৎসবের আগেই একটু কষ্ট করে নিজের ডাক্তার বা ডায়েটিশিয়ান এর সাথে কথা বলে নিবেন।
ঈদ হলো আনন্দের দিন। খাবারের কারণে অস্বস্তি অনুভব করলেও এটি সাময়িক। হালকা হাঁটাহাঁটি, পর্যাপ্ত পানি, হজমে সহায়ক খাবার এবং পরবর্তী দিনে হালকা খাদ্যাভ্যাস আপনার শরীরকে পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজেকে দোষারোপ না করা (মনের মধ্যে গিলটি ফিল ধরে না রাখা) এবং ঈদে সবার সঙ্গে মিলে ইদ-আনন্দ উপভোগ করা।
লেখক: ফৌজিয়া আহমেদ অনু, পুষ্টিবিদ।
মনোয়ারুল হক/
