পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ স্থাপন, বিতর্ক ও নাগরিকত্ব সংকট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (২৪ মে) : ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং বিদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও জোরদার করতে প্রতি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক কেন্দ্র গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, মানবাধিকার রক্ষা এবং প্রকৃত নাগরিকদের পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছে পাঠানো সরকারের এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, কথিত বাংলাদেশি, রোহিঙ্গা এবং মেয়াদ শেষ হওয়া সাজাপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিকদের এই কেন্দ্রগুলোতে রাখা হবে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যে গত বছরই এই ধরনের ব্যবস্থা চালু হলেও, পশ্চিমবঙ্গে এবারই প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মূলত আটককৃত বিদেশিদের দ্রুত প্রত্যার্পণের উদ্দেশ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে গত বছর এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
এই নতুন উদ্যোগের ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং পরিচয় বিভ্রাটের বড় ধরনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের অনেক বৈধ ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন। বিশেষ করে, জীবিকার তাগিদে অন্য রাজ্যে যাওয়া বাংলাভাষী মুসলিম অভিবাসী শ্রমিকরা এই অভিযানের কারণে সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
গত বছরের এপ্রিলে ভারতশাসিত কাশ্মীরের পহেলগামে একটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে কথিত অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়। এর অংশ হিসেবে গুজরাট, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, দিল্লি ও ওড়িশাসহ বিভিন্ন রাজ্যে নারী ও শিশুসহ হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়। পরিচয় নিশ্চিত হতে অনেককে দিনের পর দিন আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে অনেককে ছেড়ে দেওয়া হলেও, বেশ কিছু পরিবারকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো বা ‘পুশ-আউট’ করার ঘটনা ঘটেছে।
মনোয়ারুল হক/
