শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: ১ জুন অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (২৪ মে) : রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলাকেটে হত্যার মামলার বিচারপ্রক্রিয়া পরবর্তী ধাপে গড়িয়েছে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে পুলিশ যে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছিল, তা আমলে নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল।

আগামী ১ জুন এই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের (চার্জ ফ্রেম) বিষয়ে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

রবিবার (২৪ মে) শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিট (অভিযোগপত্র) গ্রহণ করে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

শুনানি উপলক্ষে দুপুর সাড়ে ১২টায় আসামিদের কারাগার থেকে এনে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। তবে এজলাসে আনা হয়নি।

এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান ৪৭ পাতাসম্বলিত চার্জশিটে বাদী ও প্রত্যক্ষদর্শী চারজনসহ মোট ১৫ জনকে সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

তদন্তে আসামি সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা এবং স্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যায় সহযোগিতার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০৯-এর ৯(২)/৩০ তৎসহ দণ্ডবিধির ২০১/৩৪ ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মামলা দায়েরের তিন দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য নিযুক্ত প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু বলেন, দ্রুততম সময়ে বিচারকাজ সম্পন্ন করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আমরা বদ্ধপরিকর।

মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জবানবন্দিতে সে জানায়, ঘটনার দিন ১৯ মে সকালে ইয়াবা সেবন করেছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে সোহেল ছোট্ট শিশুটিকে ধর্ষণ করে। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে শিশুটির মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এ সময় সোহেল তাকে গলাকেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। ঘটনার সময় একই রুমে ছিলেন তার স্ত্রী। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে।

গত ২০ মে বুধবার নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান।

ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান।

ঘটনাস্থলে স্বপ্নাকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, তার স্বামী রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে ধর্ষণ করে এবং গলাকেটে হত্যা করে। রামিসার মরদেহ গুম করার উদ্দেশে তার মাথা কেটে আলাদা করে। এ ছাড়া যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এরপর জানালার গ্রিল কেটে সোহেল রানা পালিয়ে যায়।

পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে কল পেয়ে স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ