১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব হস্তান্তর করবে: প্রেস সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (৫ ফেব্রুয়ারি) : যত দ্রুত সম্ভব অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব হস্তান্তর করবে। নির্বাচনের পর পরই নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের পর তাদের প্রতিনিধির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। প্রক্রিয়াটি যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করা হবে এবং পরবর্তী সরকারে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো ভূমিকা থাকবে না।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

প্রেস সচিব বলেন, ‘সবচেয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর (হ্যান্ডওভার) হবে। এমপিরা শপথ নেওয়ার পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি তিন দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে। অর্থাৎ ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই তা হতে পারে।’

শফিকুল আলম বলেন, “বাংলাদেশে আগে নাটক করে যেসব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড (এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং) ঘটানো হতো, এখন তেমন একটি ঘটনাও ঘটছে না। যারা অতীতে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে এবং বিচারের সম্মুখীন করা হচ্ছে। সরকারের বড় একটি দায়িত্ব হলো নির্বাচনের জন্য দেশকে প্রস্তুত করা। রাষ্ট্রব্যবস্থাকে একটি ভালো সংস্কারের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ‘জুলাই চার্টার’ তৈরি করা হয়েছে। জুলাই চার্টার এখন গণভোটে (রেফারেন্ডাম) এসেছে। বাংলাদেশের জনগণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এর ফলাফল জানাবে।”

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতি ও সংস্কৃতি আগে দুই-তিনজন লোকের হাতে কুক্ষিগত ছিল। সেখানে এখন একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। এই সরকারের মেয়াদ যখন শেষ হয়ে আসবে, অর্থাৎ সরকার ছাড়ার আগ মুহূর্তে উপদেষ্টারা তাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করবেন।’

এখন পর্যন্ত বড় কোনো সহিংসতা হয়নি জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, ‘অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনি প্রচার চলছে। পুরো বাংলাদেশে নির্বাচনের আমেজ দেখা যাচ্ছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলো অত্যন্ত পরিণত (ম্যাচিউরড) আচরণ করছে। তাদের নেতারা সারা দেশে জনসভা ও ভাষণ দিচ্ছেন। দেশের লাখ লাখ মানুষ এই ভালো নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে আছে।’

নির্বাচনি সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১১৫ জন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ২২ জন এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে ৬ জন মারা গিয়েছিলেন। অন্যান্য নির্বাচনি সহিংসতার তুলনায় এবার পরিবেশ যথেষ্ট শান্তিপূর্ণ। সরকারের হিসাব অনুযায়ী এ বছর এখন পর্যন্ত নির্বাচনি সহিংসতায় ৫ জন মারা গেছেন।’

মনোয়ারুল হক/  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ