কৃষকদের কল্যাণ-সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২৮ সেপ্টেম্বর): দল-মত ও রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে দেশের কৃষকদের সামগ্রিক কল্যাণ ও অধিকার সুরক্ষায় জাতীয় পর্যায়ে একটি কেন্দ্রীয় কৃষক সংগঠন গড়ার ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

আজ দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজ-এর নেতৃত্বে একটি আট সদস্যের প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন মো. আব্দুল জলিল, মো. হাসান আলী, মোছা. বেলী বেগম, মো. আবু তালেব জোয়াদ্দার, মো. হাফিজুর রহমান মুকুল, তোফাজ্জল হোসাইন (পল্টি) ও শওকত আলম। এ সময় রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবরাও উপস্থিত ছিলেন।

কৃষকদের দেশের প্রকৃত ও শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হলেন কৃষকরা। তাদের সম্মান ও অনুপ্রেরণা জোগাতে কৃষি খাতে অসামান্য অবদান এবং নতুন উদ্ভাবনের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি কৃষক স্বার্থকে একটি সফল আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।

দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে কৃষির প্রশংসা করে তিনি বলেন, কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, নতুন জাতের উদ্ভাবন এবং সঠিক প্রযুক্তির ব্যবহারে আজ ফসলের উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে। কৃষকরা সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে নিয়মিত অবদান রেখে চলেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষিপণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে এবং তা সহজে ভোক্তার কাছে পৌঁছে দিতে একটি কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এ বিষয়ে কৃষকদের আরও সচেতন ও সজাগ হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি এবং কৃষকদের সার্বিক উন্নয়নে সরকার ইতোমধ্যে তিন হাজার কোটি টাকার একটি নতুন স্কিম চালু করেছে। এছাড়া কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। আগামী দিনে সহজ শর্তে ও কম সুদে কৃষিঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর সুফল কৃষকরা খুব শীঘ্রই পাবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে কৃষক সমিতির প্রতিনিধি দল কৃষকদের নানা দাবি-দাওয়ার কথা রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল—কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, বিনা সুদে ঋণ সুবিধা প্রদান, কৃষকদের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘কৃষক দিবস’ পালন ও জাতীয় পুরস্কার প্রবর্তন, শস্য বীমা চালু, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব, বজ্রপাত ও সাপে কাটার মতো দুর্যোগ থেকে কৃষকদের সুরক্ষা এবং কৃষি উপকরণের সুলভ সরবরাহ।

কৃষিজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফলমূল ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দেন। পাশাপাশি আধুনিক হিমাগার ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প-কারখানা স্থাপন এবং খামারগুলোতে সোলার প্যানেল ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের উচ্চ সুদ কমানোর বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

আলোচনার শেষ পর্যায়ে কৃষক সমিতির সভাপতি ঈশ্বরদীতে সত্তরোর্ধ্ব প্রবীণ কৃষকদের সংবর্ধনা প্রদান এবং আধুনিক কৃষিপণ্য প্রদর্শন ও বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্যে একটি মেলার আয়োজনের পরিকল্পনার কথা রাষ্ট্রপতিকে জানান এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আনন্দের সঙ্গে সেই মেলায় উপস্থিত থাকার সম্মতি জ্ঞাপন করেন।

সূত্র: বাসস

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ