স্কুল কমিটি গঠন নিয়ে এমপি-প্রশাসক বিরোধ
বরিশাল প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, (২৭ সেপ্টেম্বর): পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে কুদবারচর আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পরস্পরবিরোধী সুপারিশের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এর জেরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে। কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই তাঁকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে সরকারি বরিশাল কলেজে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টির পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন সুপারিশ করা হয়।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী কুদবারচর আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে আব্দুর রশিদ মোল্লার নাম সুপারিশ করেন। অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য সিদ্দিকুর রহমান রাজ্জাককে সভাপতি করার পক্ষে সুপারিশ পাঠান। পরবর্তীতে শিক্ষা বোর্ড থেকে সিদ্দিকুর রহমান রাজ্জাককে সভাপতি করে কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
এই অনুমোদনের পর স্থানীয় এমপির অনুসারী ও মজিদবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন মৃধা বিদ্যালয় পরিদর্শক সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ এনে শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগপত্রে আলতাফ হোসেন চৌধুরী তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন। এর ফলশ্রুতিতে গত ২০ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মনজুর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সাইফুর রহমানকে সরকারি বরিশাল কলেজে সহযোগী অধ্যাপক পদে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।
অভিযোগকারী মোজাম্মেল হোসেনের দাবি, প্রধান শিক্ষক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের প্রস্তুত করা তিনজনের প্যানেল তালিকার প্রথমে আব্দুর রশিদ মোল্লার নাম ছিল। স্থানীয় এমপিও রশিদ মোল্লার পক্ষেই বোর্ডে সুপারিশ করেছিলেন। তবে বিদ্যালয় পরিদর্শক আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে সিদ্দিকুর রহমানকে সভাপতি বানিয়েছেন বলে তাঁর অভিযোগ।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বদলিকৃত বিদ্যালয় পরিদর্শক সাইফুর রহমান জানান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দাতা সদস্য সিদ্দিকুর রহমান রাজ্জাককে সভাপতি করার জন্য সুপারিশ করেছিলেন। অন্যদিকে স্থানীয় এমপি আলতাফ হোসেন একজনের নাম সাদা কাগজে সুপারিশ আকারে পাঠিয়েছিলেন, যা কোনো দাপ্তরিক ডিও লেটার ছিল না। বোর্ডের প্রচলিত পরিপত্র মেনেই দাতা সদস্যকে সভাপতি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, কোনো রকম তদন্ত ছাড়াই তাঁর বিরুদ্ধে একপাক্ষিক বদলির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাদা জানান, তৈরিকৃত তিনজনের তালিকায় সিদ্দিকুর রহমানের নাম দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা বোর্ডের যেকোনো একজনকে সভাপতি হিসেবে বেছে নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে। তবে কারও অনুকূলে কোনো ডিও লেটার ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।
পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ যোগ্য ব্যক্তিদের সভাপতি করার অনুরোধ নিয়ে তাঁর কাছে আসেন এবং তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী তিনি বোর্ডে সুপারিশ করে থাকেন। কুদবারচর বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও তিনি এমন সুপারিশ করেছিলেন।
সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনের অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে কিছু লোক তাঁর কাছে এসেছিলেন। তিনি কেবল সেই অভিযোগপত্রে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। তবে আব্দুর রশিদ মোল্লাকে সভাপতি করার সুপারিশ তিনি করেছিলেন কি না, তা তাঁর স্মরণে নেই বলে জানান।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল বলেন, মির্জাগঞ্জের একটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি অনুমোদন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৎকালীন বিদ্যালয় পরিদর্শকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সুপারিশক্রমেই সেই অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয় এবং প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই সাইফুর রহমানকে বরিশাল কলেজে বদলি করা হয়েছে।
মনোয়ারুল হক/
