স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা না থাকলে রাষ্ট্র বিপথগামী হতে বাধ্য
বরিশাল প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, (২৫ সেপ্টেম্বর): রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকলে রাষ্ট্র বিপথগামী হতে বাধ্য—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা অডিটোরিয়ামে ‘গৌরনদী পরিক্রমা’ নামক একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ব্যক্তিগত, পারিবারিক কিংবা সামাজিক জীবন—সবক্ষেত্রেই জবাবদিহিতা না থাকলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। ঠিক একইভাবে একটি রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে যদি দীর্ঘমেয়াদি জবাবদিহিতার কাঠামোর মধ্যে না রাখা হয়, তবে সেই রাষ্ট্রও বিপথগামী হতে বাধ্য হয়। যার সর্বশেষ প্রমাণ সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন।
তিনি আরও বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে যদি জনগণের সঠিক ভোটাধিকারের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হতো, তবে সরকারে থাকা কিংবা না থাকা অবস্থায়ও তাদের সঠিক জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হতো। কিন্তু জনগণের সেই অধিকার কেড়ে নেওয়ার পরিণতি আজ তাদের এই অসম্মানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে।
গণমাধ্যমের জবাবদিহিতা প্রসঙ্গে সাবেক এই তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কোনো সভ্য দেশেই জবাবদিহিতাবিহীন কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব থাকতে পারে না। কেবল একটি বড় মিডিয়া হাউসের মালিক হওয়াই যথেষ্ট নয়; তাদেরও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তারা নিয়মিত ট্যাক্স পরিশোধ করছেন কি না, সাংবাদিক ও কর্মচারীদের নির্দিষ্ট বেতন বা ওয়েজবোর্ড দিচ্ছেন কি না, সম্পাদকীয় নীতিমালা মানছেন কি না কিংবা সংবাদের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছেন কি না—তা জানার অধিকার জনগণের রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশে এই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় গণমাধ্যমের একটি অংশের মধ্যে একধরনের ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন মনোজগৎ’ তৈরি হয়েছে। এর ফলে তারা নিজেদের ইচ্ছামতো চরিত্রহনন ও মিডিয়া ট্রায়াল চালিয়েছে।
ফ্যাসিস্ট আমলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে একশ্রেণির গণমাধ্যম নানা অজুহাতে চরিত্রহননের চেষ্টা চালিয়েছে। কেউ কেউ ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য, ট্যাক্স ফাঁকি, ব্যাংক লুটপাট ও অবৈধ সুবিধা পাওয়ার জন্য এই অপকর্ম করেছে। অন্যদিকে, জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের সময় অনেক গণমাধ্যম আন্দোলন ও শহীদদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় একদল তরুণ রাজনৈতিক কর্মী আজ জাতীয় নেতায় রূপান্তরিত হয়েছেন। তাই দেশের গণমাধ্যমের জবাবদিহিতা ও ক্ষমতা যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি এই ক্ষমতা যাতে কোনোভাবেই দেশ বা জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত না হয়, সেজন্য তাদের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় থাকতে হবে।
‘গৌরনদী পরিক্রমা’র প্রকাশক ও সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জহিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম, বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবুল হোসেন মিয়া, বর্তমান আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্য সচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন শরীফ ও সদস্য সচিব সফিকুর রহমান স্বপন শরীফ প্রমুখ।
এছাড়াও একই দিন দুপুর ১২টায় কবি-সাহিত্যিকদের মিলনমেলা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জহির উদ্দিন স্বপন।
মনোয়ারুল হক/
