পেজার উঁচিয়ে প্রশংসার আশায় উপহাসের পাত্র নেতানিয়াহু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (২৫ সেপ্টেম্বর): জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে পেজার উঁচিয়ে ধরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ২০২৪ সালে লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর চালানো আলোচিত পেজার হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে তিনি এই কৌশল নেন। তবে তার এই শো-অফ বা প্রদর্শনী বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়, কারণ বক্তব্য শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন দেশের ডজন ডজন প্রতিনিধি প্রতিবাদ জানিয়ে হল ত্যাগ করেন এবং তাকে দুয়োধ্বনি দেন। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এই ঘটনা ঘটে। ভাষণে নেতানিয়াহু দাবি করেন যে, গত তিন বছর ধরে ইসরায়েলকে একযোগে ‘সাতটি ফ্রন্টে’ লড়তে হয়েছে। নিউ জার্সির সমান আয়তনের একটি দেশ কীভাবে এই দীর্ঘ সময় ধরে এতগুলো ফ্রন্টে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, সেই প্রশ্নও তিনি তোলেন।
ভাষণের শুরুতেই বহু প্রতিনিধি কক্ষ ত্যাগ করায় অধিবেশনকক্ষের একটি বড় অংশ খালি হয়ে যায়। কেবল নেতানিয়াহুর নিজস্ব প্রতিনিধিদলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে তাকে সমর্থন জানান। অধিবেশনের শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বরতদের বারবার শান্ত হওয়ার অনুরোধ করতে দেখা যায়। কক্ষ ছেড়ে যাওয়া কূটনীতিকদের পরে ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ বলে আক্রমণ করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে ইরানকে ‘হত্যাকারী একনায়কতন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে নেতানিয়াহু দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক পদক্ষেপ তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ থেকে দূরে রেখেছে। তবে বাস্তবে ইরান সরকার এখনও টিকে রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবস্থানের বিরুদ্ধে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।
২০২৪ সালের হিজবুল্লাহর ওপর হামলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নেতানিয়াহু তার হাতে একটি পেজার তুলে ধরেন। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা কীভাবে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত পেজারে বিস্ফোরক ফুটিয়েছিল, সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বিপারগুলোর কথা কি আপনাদের মনে আছে? আমি নিশ্চিত, হিজবুল্লাহ সেগুলো ঠিকই মনে রেখেছে।’ উল্লেখ্য, ওই হামলায় হিজবুল্লাহর পাশাপাশি অসংখ্য সাধারণ বেসামরিক নাগরিকও হতাহতের শিকার হয়েছিলেন।
এছাড়াও বক্তৃতায় আন্তর্জাতিক নেতাদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন নেতানিয়াহু। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে ‘স্বৈরশাসক’ এবং হামাসের সমর্থক বলে অভিহিত করেন তিনি। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, মামদানি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শহরের ইহুদিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এর পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক অতীত টেনে এনে দেশ দুটির কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলে আসন্ন নির্বাচনী প্রচারণার ব্যস্ততার কারণে নেতানিয়াহুর এবারের নিউইয়র্ক সফর ছিল বেশ সংক্ষিপ্ত। এই সফরে মার্কিন শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও নির্ধারিত ছিল না। সূত্র : এনডিটিভি
মনোয়ারুল হক/
