কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে কুমিল্লায় এক রাতে আটক ৬২৪

কুমিল্লা প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, (২৪ সেপ্টেম্বর): কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর জেরে পুরো কুমিল্লা জেলাজুড়ে একযোগে জোরালো কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ।

বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে জেলার মোট ১৮টি থানায় একযোগে এই সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়, যা রাত দেড়টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতভর চলা এই অভিযানে মোট ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীও রয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তাদের প্রকৃত সম্পৃক্ততা নিবিড়ভাবে যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

তবে এই অভিযানকে কেন্দ্র করে দাউদকান্দি উপজেলায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখানে ৫৯ জন কিশোরকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্বজনেরা দলবদ্ধ হয়ে থানায় প্রবেশ করেন। এ সময় তারা থানা চত্বরে হট্টগোল ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে বেশ কয়েকজন কিশোর থানা ভবন থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলেও জানা গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় উঠতি বয়সী কিশোরদের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার উদ্বেগজনক তথ্য সামনে আসছিল। বিশেষ করে স্কুলছাত্র অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করতে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি ওঠে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই পুলিশ পুরো জেলায় একযোগে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় জেলার ১৮টি থানায় একসঙ্গে এই অভিযান পরিচালিত হয়। যেসব এলাকায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের তৎপরতা রয়েছে বলে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল, মূলত সেসব জনবহুল ও সংবেদনশীল স্থানগুলোকে টার্গেট করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের দেওয়া প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন থানায় আটকের চিত্র নিম্নরূপ:

  • কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা: ৭৫ জন
  • দাউদকান্দি থানা: ৫৯ জন
  • বুড়িচং থানা: ৫০ জন
  • সদর দক্ষিণ মডেল থানা: ৪৬ জন
  • মনোহরগঞ্জ থানা: ৪১ জন
  • লাকসাম থানা: ৩৫ জন এছাড়াও জেলার অন্যান্য থানায় আটককৃত ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, আটককৃতদের মধ্যে প্রকৃত শিক্ষার্থী কারা, তা নিরূপণে যাচাই-বাছাই চলছে। যাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলবে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তবে তুলনামূলক কম অপরাধে জড়িত বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের কঠোরভাবে সতর্ক করে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।

এদিকে অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই রাত আটটা থেকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা ও সদর দক্ষিণ মডেল থানাসহ বিভিন্ন থানার বাইরে উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নিজেদের সন্তান আটকের খবর পেয়ে উৎকণ্ঠিত অনেক অভিভাবক দ্রুত থানায় ছুটে আসেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত থানার বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা যায় তাদের।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ