গণতান্ত্রিক সরকারের সমালোচনার অধিকার সবার রয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২২ সেপ্টেম্বর): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের সমালোচনা করার পূর্ণ অধিকার প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে। তবে সরকারের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে কোনো অভিযোগ কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণ না করে দেশের বর্তমান সংকটগুলোর প্রকৃত ও বাস্তব কারণগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিরোধী দল যেকোনো সময় সংসদের ভেতর ও বাইরে তাদের জোরালো অবস্থান থেকে সমালোচনা করতে পারে। অতীতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে লং মার্চের মতো বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়েছে। কিন্তু এসব গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সরকার কিংবা সরকারি দলের পক্ষ থেকে কখনো কোনো ধরনের বাধা প্রদানের ঘটনা ঘটেনি।

দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বাংলাদেশকে প্রতি লিটার ডিজেল প্রায় ২০৫ টাকা মূল্যে আমদানি করতে হয়। অথচ সাধারণ জনগণের নাগালের মধ্যে রাখতে তা মাত্র ১১৫ টাকায় বিক্রি করা হতো, যার ফলে সরকারের প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা করে লোকসান গুনতে হতো। সম্প্রতি তেলের মূল্য কিছুট সমন্বয় করার পরও রাষ্ট্রকে প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা করে ভর্তুকি বা লোকসান বহন করতে হচ্ছে।

তিনি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে জানান, নেপাল, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন ও ভারতের বাজারদরের সাথে তুলনা করলে বাংলাদেশের ডিজেলের মূল্য এখনো অনেক সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই এই মূল্য সমন্বয় করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।

অর্থনীতির স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতির কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, যেখানে যেকোনো পণ্যের দাম বেশি থাকে এবং পাশের দেশ বা অন্য কোথাও কম হয়, তখন অর্থনীতির সাধারণ নিয়মে পণ্যটি কম মূল্যের স্থান থেকে বেশি মূল্যের স্থানের দিকে পাচার বা চলে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেও সীমান্ত বা চোরাচালানের মাধ্যমে একই ধরনের নেতিবাচক প্রবাহ সৃষ্টির যথেষ্ট আশঙ্কা থাকে।

দেশের সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাসে আগুন, ট্রেনে নাশকতা এবং ককটেল বিস্ফোরণের মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এসব কাপুরুষোচিত ঘটনার সাথে কুচক্রী মহলের কারা জড়িত, তা জাতির সামনে স্পষ্টভাবে উন্মোচন করতে হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, যারা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কিংবা চাঁদাবাজির প্রতিবাদে লং মার্চের মতো কর্মসূচি পালন করছেন, তাদের সমান্তরালে এই ধরনের ধ্বংসাত্মক ও নৈরাজ্যমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও জোরালো লং মার্চ, প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল করা উচিত।

সরকারের উন্নয়নমূলক বা সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে চলা বিভিন্ন অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের কারণে একটি জনকল্যাণমূলক ও ন্যায়সঙ্গত সরকারি কার্যক্রম কিংবা দেশ পরিচালনার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হতে পারে। বর্তমানে দেশের ভঙ্গুর ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতকে পুনর্গঠন ও শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। এরই অংশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে একীভূত করা হয়েছে এবং সাধারণ আমানতকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ নিরাপদে ফেরত পাচ্ছেন।

রুহুল কবির রিজভী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের গতিপ্রকৃতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর সাথে সাথে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও আগের তুলনায় বেশ সন্তোষজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে পুনরায় সময়মতো গ্যাস ও প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল আমদানির সক্ষমতা অর্জন সম্ভব হয়েছে।

উক্ত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মোদ্র. রাশেদ খান। অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার নাসিম খান এবং পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জোটের মুখপাত্র এস এম শাহাদাত। এছাড়াও উক্ত সভায় জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ