স্ত্রী প্রবাসে থাকা অবস্থায় সন্তানদের নিয়ে স্বামীর বিষ পান, প্রাণ গেল ৩ শিশুর
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, (১৯ সেপ্টেম্বর): সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মা প্রবাসে থাকা অবস্থায় তিন সন্তানকে কীটনাশক খাইয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক বাবা। এ মর্মান্তিক ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ওই তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের বাবাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনীলাইন গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুরা হলো—রজনীলাইন গ্রামের সরাফত আলীর মেয়ে মাওয়া আক্তার (১০) এবং তার দুই ছেলে শামিম মিয়া (৭) ও তামিম মিয়া (২)। আর আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা বাবা সরাফত আলীর বয়স ৩৫ বছর। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত রাতের কোনো একসময়ে সরাফত আলী প্রথমে তার তিন সন্তানকে জোর করে বিষপান করান এবং নিজেও তা পান করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনরা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে বাদাঘাট বাজারের একজন স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সংবাদ পেয়ে বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা দ্রুত সেখানে গিয়ে তিন শিশুকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে তাদের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন শিশুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, বিষপানে মারাত্মকভাবে অসুস্থ সরাফত আলীকে বাদাঘাট থেকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া বলেন, ‘ভোরে মর্মান্তিক এই মৃত্যুর খবরটি জানতে পারি। শিশুদের পিতা তাদের বিষ খাইয়ে নিজেও একই পথ বেছে নেন। সরাফত আলী মূলত জুয়া ও মাদকের নেশায় আসক্ত ছিলেন।’ তিনি আরও জানান, ‘যত দূর জেনেছি, শিশুদের মা বিদেশে থাকেন। সম্প্রতি দেশে এসে তিন-চার দিন আগে তিনি আবার প্রবাসে চলে যান। পারিবারিক অভাব-অনটনের জেরে সরাফত হয়তো এমন করুণ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন।’
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, শিশুদের মৃত্যুর পেছনের মূল কারণ এই মুহূর্তে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত আছে।
মনোয়ারুল হক/
