সৌদি আরবের কাছে যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (১৮ সেপ্টেম্বর): যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান বিক্রির একটি সম্ভাব্য প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংক্রান্ত তথ্য কংগ্রেসকে অবহিত করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই সামরিক চুক্তির ফলে সৌদি আরবের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যৌথ কার্যকারিতা আরও জোরদার হবে। এছাড়া এর মাধ্যমে সৌদি বিমানবাহিনীর আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে ভূমিতে আত্মরক্ষা করার সক্ষমতাও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
দীর্ঘ সময় ধরে সৌদি আরব এই এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানগুলো সংগ্রহের আগ্রহ দেখিয়ে আসছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ইসরায়েলই এই মডেলের যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে থাকে। অতীতে সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কিছু শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, এই চুক্তির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সামরিক ভারসাম্যে কোনো পরিবর্তন আসবে না। এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বা বিশেষ অবস্থান অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
ওয়াশিংটনস্থ সৌদি আরব দূতাবাস এই সম্ভাব্য চুক্তিকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, এই উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দৃঢ় সম্পর্কেরই বহিঃপ্রকাশ। পাশাপাশি, দুদেশের এই নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, এই চুক্তিটিকে কেন্দ্র করে মার্কিন মহলেও কিছু উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে, এই স্পর্শকাতর ও উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধবিমানের গোপনীয় প্রযুক্তি যেন চীনের মতো তৃতীয় কোনো দেশের হাতে না পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কেউ কেউ সংশয় ও প্রশ্ন তুলেছেন।
উল্লেখ্য, এফ-৩৫ বিক্রির এই প্রস্তাবটি সৌদি আরবের সাম্প্রতিক বড় ধরনের সামরিক সংগ্রহেরই একটি অংশ। চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্র দেশটির কাছে বড় অংকের বোমা ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল।
এখন ২৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল সম্ভাব্য চুক্তিটির চূড়ান্ত বাস্তবায়ন পুরোপুরি মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা এবং তাদের সবুজ সংকেতের ওপর নির্ভর করছে।
মনোয়ারুল হক/
